
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকায় একটি জমির পাশে থাকা বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
রোববার (২০) দুপুরে জমির মালিক শাওন ফরহাদের পিতা হেলাল উদ্দিন স্বপন এ অভিযোগ করেন।
এরআগে গভীর রাতে প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান নাইম ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন হেলাল উদ্দিন। তিনি জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স এলাকা বাসিন্দা ও কাতার প্রবাসী।
হেলাল উদ্দিন জানান, লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের পাশে সমসেরাবাদ মৌজায় তার ছেলে শাওন ফরহাদ গত ২৭ আগস্ট সোয়া পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয় করে। জমির দাতা হলেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ গ্রামের সেলিম মিয়ার তিন মেয়ে ফারহানা আক্তার, রোমানা আক্তার ও তানজিনা আক্তার। জমিটি ক্রয় করার পর সেখানে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করেন তারা৷ কিন্তু বিক্রেতাদের ভাই মেহেদী হাসান নাইম তাদের সাথে ওই জমি নিয়ে ঝামেলা শুরু করে।
হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, জমির দাম কম হয়েছে দাবি করে নাইম আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় সে হয়রানি করে আসছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর সে জমির কাছে এসে ক্রেতাদের হুমকি দেয়। এনিয়ে হেলাল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবং জমিতে থাকা নির্মাণ সামগ্রী পাহারার জন্য পাহারাদার নিয়োগ করেন।
তিনি বলেন, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে দুটি এ্যাম্বুলেন্স যোগে ১৫-১৬ জন লোক এসে পাহারায় থাকা লোকজনকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে ফেলে। নাইম তার ভাড়াটে লোকজন দিয়ে কাজটি করিয়েছে। বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে অবহিত করেছি।
জমির পাহারাদার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, রাতে আমরা চারজন পাহারায় ছিলাম। লোকজন এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। তারা আমাদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে দেওয়াল ভাংচুর করেছে।
জমির বিক্রেতা ফারহানা বলেন, আমাদের পৈতৃক মালিকানাধীন জমি আমরা তিনবোন বিক্রি করেছি। এখানে আমাদের ভাই নাইমের কোন মালিকানা নেই। সে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করতেছে।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান নাইম বলেন, কে বা কাহারা ভাংচুর করেছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি শারিরীকভাবে অসুস্থ। তবে ওই জমি নিয়ে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। থানা থেকে দুই পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষই নোটিশ গ্রহণ করেছে। এর বাহিরে আমি আর কিছুই জানি না।
সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরুল করিম বলেন, বিষয়টি ভুক্তভোগী আমাকে জানিয়েছে। তাদেরকে থানায় এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।