আলেয়া মান্নান
বলনা কি হয়েছে তোর, মাথা কেনো নিচু।
মনেতে কি মেঘ জমেছে, কেউ বলেছে কিছু?
মুখখানা যে মলিন তোর, দুচোখ ভরা জল।
কোন বিষাদে নীরব এমন, বল না খুলে বল।
স্বপ্ন কি তোর হাওয়ায় ভেসে, তলিয়ে গেছে জলে?
তাই বলে কি বসে আছিস, একলা’ নদীর কূলে?
আয় না সখী জড়িয়ে ধরি, মুছিয়ে দেই কান্না।
যেমন ছিলাম তোর পাশে, আছি তেমন শোন না।
নতুন করে সাজবি আবার, গাঁথবি বকুল মালা।
হয়তো আবার মন- সাগরে ভাসবে ফুলের ডালা।
সুখের বাঁশি বাজবে আবার, হৃদয় উঠবে ভরে।
অভিমানী মনটা আবার, জড়িয়ে নিবি চাদরে।
অন্ধকারের পরে আবার, ফুটবে ভোরের আলো।
দুঃখের পরে সুখ আসে, জেনে রাখিস ভালো।
অভিমান করিস না আর, বল না আমায় বল।
লুকিয়ে রাখার জন্য, আর করিস না ছল।
তুই যে বড় অভিমানী, সবটা আমি জানি।
আজও কি বুঝিসনে তুই, ভালোবাসি কতখানি।
বল না কি হয়েছে তোর, করিস না মাথা নিচু।
মনেতে কি আঘাত দিয়েছে, কেউ বলেছে কিছু?
কবির পরিচিতি
কবি আলেয়া মান্নান, যাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম মোসাঃ আলেয়া খাতুন। তিনি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসাঃ জুবাইদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন মা, সংসারী, চাকুরীজীবী ও জীবনসংগ্রামী মানুষ। শত ব্যস্ততার মাঝেও দিন কাটিয়ে রাতের নীরবতায় তিনি সাহিত্য নিয়ে ভাবেন এবং লেখালেখি করেন। শৈশবে খুব দুরন্ত প্রকৃতির কবি আলেয়া মান্নান ভ্রমণ করতে বেশ পছন্দ করেন। ইতিমধ্যেই তিনি বাংলাদেশের অনেক জেলা ভ্রমণ করেছেন।
সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর পদচারণা বেশ মুখর। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে তাঁর একটি যৌথ বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর শতাধিক কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কবিতার পাশাপাশি গল্প লেখারও ইচ্ছে আছে তাঁর। সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল ভাবনা। তিনি সর্বদা মানুষের আপদে-বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কবির জীবনধারা অতি সাধারণ। কবি একজন দায়িত্বশীল আদর্শ মানুষ—এটাই তাঁর বড় পরিচয়।
মন্তব্য করুন