স্টাফ রিপোর্টার :
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের জ্যামাইকাতে অনুষ্ঠিত হলো চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের আশেক-জাকেরদের পুনর্মিলনী। ‘শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন আমেরিকা ইনকর্পোরেশন’-এর উদ্যোগে গত ২৬ জুলাই, রবিবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই জাকজমকপূর্ণ সামাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে দরবার শরীফের বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও জাকেরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। এতে সম্প্রতি বাংলাদেশের ফরিদপুরে প্রায় চার হাজার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানসহ সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র আমেরিকা ও কানাডায় অবস্থানরত জাকেরদের সামনে তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ:) ‘হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। মহান সাধক হযরত খাজা এনায়েতপুরী (রহ:)-এর নেসবতভুক্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানটি বছরজুড়ে হাজারেরও বেশি ‘সাদকা-ই-জারিয়া’ বা স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা অনুদান এবং দুর্যোগকালীন সময়ে খাদ্যসামগ্রী ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করে আসছে। আত্মা শুদ্ধ, দিল জিন্দা, নামাজে হুজুরী অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল (সা:) সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাসিলের সাথে সাথে এই বৈশ্বিক মানবসেবার ধারাবাহিকতা হিসেবেই হযরত মাওলানা সৈয়দ কামরুজ্জামান শাহ্ চন্দ্রপুরী নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (রহ:) এর হুকুমে আমেরিকাতেও এটি অলাভজনক চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলোচকগণ পীর কেবলাজানের শিক্ষা পদ্ধতি আত্মশুদ্ধি, দিল জিন্দা এবং সালাতে একনিষ্ঠতা (নামাজে হুজুরী) অর্জনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা পীর কেবলাজানের শিক্ষা অনুসরণের তাগিদ দিয়ে বলেন, “আত্মার আত্মশুদ্ধির জন্য মিথ্যা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা, পরনিন্দা-পরচর্চা, হারাম উপার্জন ও হারাম খাবার গ্রহণের মতো ইত্যাদি আত্মঘাতী আচরণ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।”
একইসঙ্গে প্রতিদিন গুরুত্বের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, নিয়মিত ওজিফা পালন, মোরাকাবা করা, এবং সাধ্যমতো দান-সদকাসহ পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে, পবিত্র ফাতেহা শরীফ, মিলাদ শরীফ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে মানবজাতির কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করার মাধ্যমে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন