আলেয়া মান্নান
বাবার সাথে হাটে যাচ্ছি,
চুপিচুপি ঈশারায়,সখীদেেরও ডাকছি।
যাবার পথে মনেমনে,খুব আনন্দ পাচ্ছি।
কত কিছু কিনবো হাটে,তাই যেন ভাবছি।
মাঝেমাঝে পিছু ফিরে, চেয়ে দেখি বাড়ি।
সামনে দেখি গনেশ্বরী নদী,দিতে হবে পাড়ি।
নদী পারের জন্য আমরা,জমা দিলাম কড়ি।
ওমনি দেখি মাঝি ভাই,নৌকা দিলো ছাড়ি।
ওমাঝি ভাই শুনছো নাকি?এদিক ফিরে চাও।
বাবার সাথে হাটেে যাবো,ওপার নিয়ে যাও।
খেলনা পুতুল কিনবো আমি ,
হাট থেকে ফিরবো যখন,দেখে নিও তুমি।
রঙ বেরঙের কিনবো গাড়ি,
আরও কিনবো ঘড়ি,
বোনের জন্য রঙিন জামা,কিনবো ফিতা চুড়ি।
ভাইয়ের জন্য খেলনা কিনবো,খাবার নেবো মুড়ি।
সবার শেষে মায়ের জন্য কিনবো একটি শাড়ি।
ওমাঝি ভাই বলি তোমায়,পার করিয়া দাও,
তোমার জন্যও নিয়ে আসবো,যদি কিছু চাও।
কবির পরিচিতি
কবি আলেয়া মান্নান, যাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম মোসাঃ আলেয়া খাতুন। তিনি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসাঃ জুবাইদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন মা, সংসারী, চাকুরীজীবী ও জীবনসংগ্রামী মানুষ। শত ব্যস্ততার মাঝেও দিন কাটিয়ে রাতের নীরবতায় তিনি সাহিত্য নিয়ে ভাবেন এবং লেখালেখি করেন। শৈশবে খুব দুরন্ত প্রকৃতির কবি আলেয়া মান্নান ভ্রমণ করতে বেশ পছন্দ করেন। ইতিমধ্যেই তিনি বাংলাদেশের অনেক জেলা ভ্রমণ করেছেন।
সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর পদচারণা বেশ মুখর। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে তাঁর একটি যৌথ বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর শতাধিক কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কবিতার পাশাপাশি গল্প লেখারও ইচ্ছে আছে তাঁর। সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল ভাবনা। তিনি সর্বদা মানুষের আপদে-বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কবির জীবনধারা অতি সাধারণ। কবি একজন দায়িত্বশীল আদর্শ মানুষ—এটাই তাঁর বড় পরিচয়।
মন্তব্য করুন