নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর দরগাহ শরিফে আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার (১১ অগ্রহায়ণ) অনুষ্ঠিত হবে ৬৬৭তম বার্ষিক ওরশ মোবারক। এ উপলক্ষে দরগাহ শরিফের এন্তেজামিয়া কমিটির উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ওরশের আয়োজন করা হয়েছে।
পীরানে পীর গাউছুল আজম দস্তগীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বংশধর হিসেবে পরিচিত হযরত সৈয়দ আহমদ তানুরী তাওয়াক্কুলী ওরফে হযরত সৈয়দ শাহ মিরান (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এ দরগাহ শরিফে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী নানা নিদর্শন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত শাহ মিরান (রহ.)-এর ১২ জন আওলাদ বা সন্তান ছিলেন। তাঁদের বংশধরদের সঙ্গে এ দরগাহ শরিফের ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে।
দরগাহ শরিফের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে দুটি মাজারের মাঝখানে অবস্থিত কেরামতি পুকুর, একটি ডেপাল গাছ, গোলাকার আকৃতির বিশেষ ধরনের বিধার, যা স্থানীয় অনেকের কাছে ‘গোল পিঠা’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া রয়েছে প্রাচীন বাঁশঝাড় ও বিভিন্ন ধরনের বকুল ফুল। এসব নিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগ প্রচলিত রয়েছে।
স্থানীয় ভক্তদের বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অনেক ভক্ত-আশেকান মনের আশা পূরণ ও মানত আদায়ের নিয়তে দরগাহ শরিফে আসেন। কেউ কেরামতি পুকুরের পানি, কেউ বাঁশঝাড়ের কাণ্ড, আবার কেউ বকুল ফুল ও বিভিন্ন গাছের ফল সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দরগাহ শরিফে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হয়। তবে এগুলো স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত রীতির অংশ।
ওরশ উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ভক্ত-আশেকান, মুরিদান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মাজারের নিয়ত ও মানতের টাকা-পয়সা, গরু-ছাগলসহ অন্যান্য সামগ্রী কারও হাতে না দিয়ে নিজ হাতে মাজার শরিফে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ওরশের স্থান: কাঞ্চনপুর দরগাহ শরিফ, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর।
তারিখ: ২৬ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার (১১ অগ্রহায়ণ)।
আয়োজনে: এন্তেজামিয়া কমিটি, কাঞ্চনপুর দরগাহ শরিফ।
আয়োজক কমিটি দেশ-বিদেশের সব ভক্ত-আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে ৬৬৭তম বার্ষিক ওরশ মোবারকে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন