বাংলার মুকুল নিউজ ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাড়া এলাকায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সরকারি খাস দিঘি প্রকাশ আনসার ক্যাম্প দিঘির পাড়ের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো. জুয়েলের, মানিক ও ইমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ভূমি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সুত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাড়া এলাকার সরকারি খাস দিঘির দক্ষিণ পাড়ে উপজেলা ভূমি অফিস অবস্থিত। দিঘির উত্তর পাড় থেকে বীরেন্দ্র খাল পর্যন্ত পানি চলাচলের জন্য ২২ ফুট চওড়া নির্ধারিত জায়গা (দিঘির জান) রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জায়গা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিঘির পানি বীরেন্দ্র খালে প্রবাহিত হয়ে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, দিঘির উত্তর পাড়ের ওই এলাকায় মো. মন্টু মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল, মানিক ও ইমন একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে অভিযুক্তরা দুর্ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল বলেন, ‘আমি সরকারি সম্পত্তিতে সবেমাত্র সামান্য জায়গা দখল করেছি। সরকারি জায়গার পাশে বাড়ি নির্মাণ করছি। অন্যরাও সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে, তাই আমিও দখল করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভূমি অফিসের লোকজন জায়গাটি দেখে গেছেন এবং আমাকে অফিসে যেতে বলেছেন। আমি অফিসে যাইনি। তারা সরকারি সম্পত্তি পরিমাপ করে নিলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
রামগঞ্জ পৌরসভার তহশিলদার মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি পরিমাপ করে নির্ধারণের জন্য আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দাখিল করেছি।’
রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তিতে বেদখলের কোনো সুযোগ নেই। দিঘির এক প্রান্তে আমাদের অফিস, আরেক প্রান্তে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হবে—এটি মেনে নেওয়া হবে না। তবে আগে দেখতে হবে সেখানে সরকারি সম্পত্তি কতটুকু রয়েছে।’
সরকারি সম্পত্তির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ ও দখলের অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন