
কাজী মুহাম্মদ ইউনুছ,
কমলনগর উপজেলা প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন বিনষ্ট করে সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।
(আজ)সোমবার সকাল ১০ টায় এ ঘটনা ঘটে কমলগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়- সম্প্রতি, মোবাইল ফোনবিরোধী নোটিশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।নোটিশ অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির মিহাদ নামে এক শিক্ষার্থী গোপনে শ্রেণিকক্ষে ফোন নিয়ে হাজির হলে শিক্ষক রায়হানের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক ঐ শিক্ষক আইফোন মডেল -৬ টি উদ্ধার করে সকল শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মাঠে ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন না আনার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।উল্লেখ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সু-শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপাটি ও ছোট চুল রেখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। একই নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি থাকা বা টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে’।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার নোটিশ জারির পর অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে আইফোন পাওয়া যায়। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান ওই ফোনটি ভেঙে দেন।
এদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করায় ঘটনাটিকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সমর্থকদের মতে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন আগে থেকেই লিখিত নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে, তখন নিয়ম অমান্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান জানান, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একটি ফোন ভেঙ্গে দিয়ে অন্য সকল শিক্ষার্থীদেরকে সতর্ক করেছি।
তোরাব গঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কামাল উদ্দিন আহমেদ বাহার জানান,আগে নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সবাইকে সতর্ক করেছি।বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরাতে আমাদের এই উদ্যোগ।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর ভূঁইয়া জানান,খোজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। এটা আমার জানা নাই।