
কাজী মুহাম্মদ ইউনুছ :
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা ‘মা ইলিশে’র প্রজনন নির্বিঘ্ন করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যাতে কেউ সাগর বা নদীতে নামতে না পারে সেজন্য মৎস্য বিভাগ, বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা টহল জোরদার রয়েছে। সেই সাথে চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ এই সময়ে মাছ শিকার, পরিবহণ, মজুদ ও বাজারজাতকরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কঠিন আইনী ব্যবস্থা।
মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার এলাকা এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। এই আয়তনের মধ্যে কমলনগর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরেরৃ কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকে সকল স্তরের প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ভেদ করে উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হুমায়ুন কবির ও যুবদল নেতা ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ৮টি নৌকা প্রতিনিয়ত নদীতে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য।
এদিকে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণে সরকার দলীয় লোকজন মৎস্য কর্মকর্তা, কোস্টগার্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ সব অপকর্ম করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিন থেকে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেন দুই বেলা নদীতে নৌকা পাঠাচ্ছেন। মেঘনায় প্রচুর পরিমানে ডিমওয়ালা মা ইলিশ থাকায় গত ৫দিনে একেকটি নৌকায় ১৫ থেকে ২০লাখ টাকার করে মাছ বিক্রি করছেন বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।
সরেজমিন উপজেলার মতিরহাট গিয়ে দেখা যায় মেঘনা নদীতে আটটি নৌকা মাছ ধরছে। সন্ধ্যা নামার পর নৌকাগুলো মাছ নিয়ে আসছে। পরে মতিরহাটের দক্ষিণ পাশে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করছে জেলেরা। ওই সময় দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরসহ দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী ও সাধারন জনগণ মাছ কিনে বাড়ি ফিরছেন।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীতে সরকার ইলিশ প্রজনন ঘটানোর উৎসাহে এই নির্দিষ্ট ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও সরকার দলীয় লোকজন তা মানছেননা। এভাবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকাশ্যে মাছ ধরা এবং বিক্রি অতীতেও দেখা গেলেও সাধারণ জয়নগনের প্রত্যাশা ছিল এমন অনিয়ম বন্ধ হবে কিন্তু ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও অনিয়মের পরিবর্তন হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার মুহূর্তে এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন হলে আগামীতে মেঘনায় ইলিশ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অনেকেই ।
এ দিকে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর কোস্টগার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার নুরুল আবছার জানান, নদীতে মাছধরার বিষয়টি তার নলেজে নেই। প্রতিদিনই তাদের টহল অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, মতিরহাটের মাছধরার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা হচ্ছে । উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মতিরহাটে মাছ ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।