রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পুত্রবধূর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রেজিয়া আক্তার। তিনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওয়াজী উল্ল্যা মোল্যার স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। রেজিয়া আক্তারের অভিযোগ, পুত্রবধূর ভয়ে মোল্যা বাড়ির প্রায় ৩৫টি পরিবারও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছে না। কেউ তার পক্ষে কথা বললে কিংবা ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিলে মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাড়ির ছিদ্দিক উল্যা নামে এক প্রবাসীকে মিথ্যে মামলা দিয়ে বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম টামটা-তুলাতলি মোল্যা বাড়ির সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোঃ ওয়াজী উল্যার ছোট ছেলে আমজাদ হোসেন সোহাগের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী রায়পুর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের কাপিলাতলী গ্রামের মফিজ বেপারী বাড়ির শাহাজাহানের মেয়ে শাহনাজ আক্তার পিংকির ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই পরিবারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ অজিউল্যা মৃত্যুর পর পারিবারিক বিরোধ আরও প্রকট হয় বলে দাবি রেজিয়া আক্তারের। এরপর থেকেই তিনি নিজেকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির এবং নির্যাতনের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় টামটা মোল্লা বাড়ির মোঃ আসিফ মুনতাসির, প্রবাসী আলমগীর হোসেন ও আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শালিশি বৈঠক ও আলোচনা রয়েছে। তবে মামলা-মোকদ্দমার আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছে না।
বৃদ্ধা রেজিয়া আক্তার বলেন, বয়সের ভারে আমি অসহায়। পারিবারিক বিরোধের কারণে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তা এবং নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
অভিযুক্ত পুত্রবধু শাহানাজ আক্তার পিংকি জানান, আমার সাথে আমার শাশুড়ির কোন বিরোধ নাই। আমার ভাসুররা মাকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে উল্টো নিরাপত্তা হীনতায় আছি। মোল্ল্যা ফাউন্ডেশনের টাকা খেয়ে বাড়ির সব আমার বিরুদ্ধে লাগছে।
মন্তব্য করুন