নজির আহম্মদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সরকারি টাকা নয়ছয় করাকে বড় অপরাধ হিসেবে মনে না করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা নানাভাবে ‘কাজ’ করে যাচ্ছেন, তাঁরা হয়তো নিজেরা মনে করেন এবং অন্যদেরও করতে উদ্বুদ্ধ করেন, সরকারি কোষাগারের অর্থ অনন্তকালীন চুরি ও অপচয়েও কমে না, তছরুপ হওয়া অর্থ গৌরী সেন নামক কেউ একজন এসে দিয়ে যান। জনগণই যে সেই কল্পিত সর্বংসহা গৌরী সেন, তা জনগণকে ভুলিয়ে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়। এ চেষ্টায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া নয়ছয়কারী চক্রের কেউ কেউ এতটাই বেপরোয়া যে সড়ক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার প্রচলিত দুর্নীতিতেও তুষ্ট নন। তাঁরা অফিসের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে কাজ না করে, কিংবা অংশমাত্র করেই বিল তুলে নেওয়ার শর্টকাট পথে হাঁটেন। এতে জনগণের অর্থ যায়, কাজও হয় না; মাঝখান থেকে সময় নষ্ট হয়।
কাজ শেষ না করে বিল তোলার সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার (বর্তমান) চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অধীনে বশিকপুর ইউনিয়নে। সেখানে কয়েক বছর ধরে একটি সড়ক অসম্পূর্ণ রয়েছে। বিল তুলে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
দৈনিক বাংলার মুকুল এর প্রতিবেদন বলছে, রশিদপুর GPS কমলাপুর সড়ক Ch.00-1046m নথি নং- ৪৬.০২.০০০.৪৩.১৪.২৩.২২ প্যাকেজ নং- IRIDP-3/LAX/SADW-79 টেন্ডার আইডি নং- ৭৭৩৭২৯ রশিদপুর স্কুলের পশ্চিম পাশ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় 1046 মিটার রাস্তার কাজ পেয়েছিল মেসার্স রানা বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৯৩ লাখ ৯০ হাজার ৭শত ২ টাকার কাজ গত বছরের জুন ২৪ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা নির্মাণকাজ শেষ না করেই এলাকা ত্যাগ করেছে। অসমাপ্ত ফেলে রাখা পরও ঠিকাদার চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করলে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সহযোগিতা গত ১৯/০৬/২০২৫ কাজের বিল তুলে নিয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন আমরা দীর্ঘদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, কোন রোগীকে হাসপাতালে নিতে পারছি না। আমাদের রাস্তার টেন্ডার হওয়ার পরও কাজ না করে কিভাবে ঠিকাদার টাকা উত্তোলন করেছে!
কোন কর্মকর্তা কাজ না দেখে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিলের অনুমোদন দিয়েছে। যেহেতু আইনে আছে, সরকারি কোন কাজ বা অর্থের অনিয়ম হলে তাহা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। তাই ঠিকাদারের জামানত বাজোপ্তকরণ এবং জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই আমরা চায়, ওই কর্মকর্তা এবং এ ঠিকাদারের বিচার নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। দুর্নীতি দমন কমিশন এর কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন এ দুর্নীতিবাজদেরকে আইনের আওতা এনে বিচার নিশ্চিত করেন। তাহলে আগামী প্রজন্মে বাংলাদেশের কোন উন্নয়নের কাজের অর্থ অনিয়ম করার সাহস পাবেনা কোন দুর্নীতিবাজরা।
লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী জানান, আমি তদন্ত করে দেখব। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে বা আমিও যদি করে থাকি তাহলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করে যাব।
মন্তব্য করুন