
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কাজীর চর- মিতালী বাজার -চর কাসিয়া সড়কের প্রয় এক কলোমিটার জুড়ে গাইড ওয়াল না থাকায় রাস্তার পাড় ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টিতে সড়কের পাশের মাটি ধসে পড়ায় কোথাও কোথাও রাস্তার একাংশ ভেঙ্গে গেছে। এতে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দা সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষক – শিক্ষার্থী নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করে। সড়কের পাড় ধসে যাওয়ায় শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে খাল থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। অতিবৃষ্টিতে খালের পানি ও স্রোতের কারণে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বড় অংশজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের পিচের নিচের মাটি বেরিয়ে গেছে, আবার কোথাও রাস্তার কিনারা ভেঙে খালের দিকে ধসে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলা ও যথাযথভাবে গাইড ওয়াল নির্মাণ না করেই সড়কের কাজ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে অতি বৃষ্টিতে রাস্তার পাড় ধসে পড়লে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে প্রাথমিকভাবে সংস্কার করেছেন। তবে এতে স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সড়কের পাশে খাল থাকায় গাইড ওয়াল ছাড়া রাস্তার কাজ করায় বর্ষা মৌসুমে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মিতালী বাজার মডেল একাডেমির এক শিক্ষার্থী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে রাস্তার পাড় আরও ভেঙে যায়। দ্রুত এটি ঠিক করা দরকার। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করে খালের পাশে প্রয়োজনীয় গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ বা নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার পানিতে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন আমি সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নিব।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার বলেন আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি ,স্থানীয়রা যদি লিখিত আবেদন করে তাহলে এলজিইডি’র সাথে কথা বলে ।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং এই বিষয়ে মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।
মন্তব্য করুন