বাংলার মুকুল নিউজ ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলাজুড়ে মাদকের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে একটি চক্র। উপজেলার ৬নং লামচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কাশিমনগর এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মমিনউল্যা এমপির পুরানবাড়ি (কবিরাজ বাড়ি) নিবাসী জসিম উদ্দিন ওরফে ‘বাতি লেইঞ্জা’ (পিতা: তাফাজ্জল হোসেন) এই পুরো মাদক সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের শাখা-প্রশাখা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে এই সিন্ডিকেটের কাছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে জসিম উদ্দিন এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ থেকে ২২টি মাদক মামলা দায়ের হয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিবারই জেল থেকে জামিনে বা ছাড়া পেয়ে তিনি পুনরায় পূর্বের মতো নির্দ্বিধায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেট পরিচালনার ক্ষেত্রে জসিম উদ্দিনের রয়েছে বেশ কয়েকজন বিশ্বস্ত সহযোগী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো কাশিমনগর সোহাইজ্ঞার বাড়ির হাবুর ছেলে আব্দুর রহমান এবং একই বাড়ির হোসেনের ছেলে রিপন (যিনি সম্প্রতি জেল খেটে বেরিয়েছেন)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের মূল শক্তি হলো তাদের সুসংগঠিত আইনি ও লজিস্টিক সাপোর্ট। সিন্ডিকেটের কোনো সদস্য বা সহযোগী মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চক্রের নির্দিষ্ট আইনজীবী দ্রুত আদালতের মাধ্যমে তাদের জামিন করিয়ে মুক্ত করে আনেন। ফলে আইনের শাসন বা কারাবাসের কোনো তোয়াক্কা না করেই প্রশাসনের নাকের ডগায় বীরদর্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রটি।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ধরলেও আইনি ফাঁকফোকর ও শক্তিশালী জামিন চক্রের কারণে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
রামগঞ্জ উপজেলার এই দক্ষিণাঞ্চলের যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে জনপদকে মুক্ত করতে অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেটের মূলহোতা জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন