নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ‘ঘুষ’ গ্রহণ ও কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে করে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। এঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পিডিবির তদন্ত ও শৃংখলা পরিদপ্তর শাখার উপ-পরিচালক=-১ এর মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশ আদশে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরলি আমিনের ঘুষ লেন-দেনের একটি ভিডিও গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারী চাকুরী বিধি অনুযায়ী পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এসময় তিনি নিয়ন্ত্রনকারী কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেনা।
এদিকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে উক্ত ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটি এইা প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এর মধ্যে ভিডিওর কিছু অংশে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে, কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কি কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসেব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেব। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তিনি ওইসব ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে কত? ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।এদিকে ভিডিওটি ঠিক কতদিন আগের, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নড়চেড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন