প্রদীপ কুমার রায়:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসতঘরে ঢুকে প্রায় ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চোরাই প্রায় ৩ ভরি ১০ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে রায়পুর উপজেলার ১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শবনম ফেরদৌস চৌধুরী (৫৪)-এর বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন বলে জানা গেছে। এই সুযোগে চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ও বিভিন্ন স্থানে রাখা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১২ আগস্ট রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর চুরির রহস্য উদঘাটন ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে রায়পুর থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
তদন্তের একপর্যায়ে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো—ফাহাদ হোসেন (১৬) ও সিফাত (১৭)। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চোরাই প্রায় ৩ ভরি ১০ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণ ও টাকা চুরির ঘটনায় লেনদেনের সঙ্গে জনৈক সুইটি আক্তার, খোকন সর্দার ও শ্রী সুমন বণিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও নগদ টাকা চুরি যাওয়া মালামালের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং বাকি স্বর্ণালংকার কোথায় রয়েছে, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রকৃত মালিকানা ও চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দিনের বেলায় বসতঘরে ঢুকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন