
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরে ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের কারনে মোতোয়াল্লীকে মামলাবাজ আখ্যা দিয়ে এলাকার কিছু লোককে দিয়ে মানববন্ধন করানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন টুকা মিয়া ওয়াকফ স্টেটের মোতোয়াল্লী জাহাঙ্গীর হোসেন। ২ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে পৌর ১৪ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত লুৎফর রহমান পুত্র ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য জানান, তিনি ২৬ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সততার সাথে চাকরি করে ২০১৮ সনে সার্জেন্ট পদে থাকা অবস্থায় অবসরে যান। স্হানীয় উত্তর বাঞ্চানগর, গোপিনাতপুর ও দক্ষিণ হামছাদী মৌজায় অবস্থিত টুকামিয়া ওয়াকফ স্টেটের ৮.৫৫ একর সম্পত্তি রক্ষায় ২০১৯ সনে তিনি মোতায়াল্লীর দায়িত্ব পান। মোতোয়াল্লীর দায়িত্ব পাওয়ার পরে উক্ত ওয়াকফ স্টেটের বেদখল হওয়া কিছু সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করেন। এতেকরে এলাকার কিছু ভূমিদস্যু ও কুচক্রীমহল তাঁর বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার হত্যা করার চেষ্টা করেছে। পরিপেক্ষিতে পক্ষে- বিপক্ষে একাধিক মামলা ও অভিযোগ হয়। এসব মামলা- অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে যায়। এতে এলাকার কিছু সমাজ বিরোধী ও ভূমিদস্যু লোকজন তাঁকে মামলাবাজ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে মানববন্ধন করায়। পরে তা ফেসবুকের বিভিন্ন লিংক দিয়ে প্রচার করে। সেই মানববন্ধনে করা মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য আরও বলেন, স্হানীয় উত্তর বাঞ্চানগর এলাকায়র মৃত চৌধুরী মিয়ার পুত্র বাকের হোসেন প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বেও রিকশা ও সিএনজি চালাতেন। সেই বাকের হোসেন মাজরা ভিসায় ২০১৭ সনে সৌদি আরবে গিয়ে মালিকের মোটা অংকের টাকা মেরে দিয়ে এখন শতকোটি টাকার মালিক হন। পরে টাকার জোরে ২০২০ সনে জাহাঙ্গীরের ভাই মনিরের জমি জাল- জালিয়াতি করে দখল করে মাত্র আড়াই মাসে তিন তলা বিল্ডিং উঠায়। এসব কারণে বাকেরের বিরুদ্ধে দলিল জাল জালিয়াতি ও উচ্ছেদের মামলা দেয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীরকে কয়েকবার আক্রমণ করে মারধর করে। এছাড়া টুকা মিয়া ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি জবর দখলকারীদের বাকের অর্থ দিয়ে সেল্টার দিচ্ছে।
এলাকার ফিরোজ (৭০) এবং পুত্রদ্বয় রবিন ও আশরাফুল মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ১০০ টি মামলার অভিযোগ আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তখনকার দখলবাজ- জুলুমবাজ জবেদুল্লা ভূঁইয়ার বোবা মেয়েকে বিয়ে করে জামাই -শ্বশুর একত্রিত হয়ে টুকামিয়ার ঘরে গিয়ে বাদশা ও বশির উল্ল্যাহকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে তাঁরা টুকা মিয়ার ঘর দখল এবং ৩ একরের বেশি সম্পত্তি দখলে নেয়। জাহাঙ্গীরের পিতা ওয়াকফ স্টেটের মোতোয়াল্লী থাকাকালীন ১৯৮৮ ওই জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাঁর পিতার নামেও তাঁরা মানববন্ধন করিয়েছিলো।
তিনি আরও বলেন, বয়স্ক ও অসুস্থ মুয়াজ্জিন রুহুল আমিন (৮০) সঠিকভাবে কোরআন পড়তে পাড়েন না। আগে রুহুল আমিন দখলবাজ- জুলুমবাজ ছিলেন। জলিল মুন্সির সাথে এক হয়ে টুকামিয়া ওয়াকফ স্টেটের আয়- ব্যয় সব আত্মসাৎ করে এবং স্বার্থের জন্য মোতোয়াল্লীদের দা-ছেনি নিয়েও দৌড়াতেন। জাহাঙ্গীরের জমিতে জোরপূর্বক বসবাস করায় সে তাঁর বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা দেয়াতে বয়স্ক মুয়াজ্জিন রুহুল মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলে।
নফিল মিয়ার পুত্র লাতু মিয়া ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন। জাহাঙ্গীর তাঁর বিরুদ্ধে সম্পত্তি উদ্ধারের মামলা করায় সেও মানববন্ধনে মিথ্যা অভিযোগ করেন।
গনি মিয়ার পুত্র আব্দুল হালিম (৫৭) ও পুত্রদ্বয় আজগর (২৮) এবং আকবর (২৫) রা মোতোয়াল্লী নুরুল আলম (বিপ্লব) ও নুরুল হুদা (রানা) র সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভোগদখল ও অবৈধভাবে বিক্রি করে। জাহাঙ্গীর প্রতিবাদ করলে তাঁরাও তাকে একাধিকবার মারধর করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর দাবী করে বলেন, হানিফ মিয়ার পুত্র নুর হোসেন, আব্দুর রশিদের পুত্র আলি আহমেদ, জয়নাল আবেদীনের পুত্র সুজন মিয়া, ধনু মিয়ার পুত্র সবুজ মিয়া, মনু মিয়ার পুত্র আমানুল্লাহসহ আরও লোকদেরকে অবৈধ কালোটাকার মালিক বাকের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে এনে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধনে দাড় করিয়েছে। বর্তমানে বাকেরসহ উপরোক্ত ব্যক্তিরা ভাই- ভাতিজাসহ জাহাঙ্গীরকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলতে হুমকি ধামকি দেয়াতে সে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনসহ দেশবাসীর নিকট সুবিচারের চেয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাকের হোসেনের নিকট মুঠোফোন বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর হোসেনের আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজ মিয়া, হালিম মিয়া, লাতু মিয়ার বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি
চট্টগ্রাম বিভাগের ওয়াকফ স্টেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসচিব মো. সামিউল হক মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, এ ব্যাপারে ভালো করে জেনে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন