নিজস্ব প্রতিবেদক :
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের আশেক-জাকেরদের পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান। ‘হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন আমেরিকা ইনকর্পোরেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলায় শতাধিক জাকের ও ভক্তপ্রান আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এসে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জাকেরগণ চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমেদ শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর শিক্ষা আদর্শ নীতি সকলের মাঝে তুলে ধরেন। পাশাপাশি হযরত চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আগত অতিথিদের সামনে প্রামাণ্য চিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিগত দিনে ফাউন্ডেশন কর্তৃক ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া এলাকায় প্রায় চার হাজার মানুষের মাঝে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রামান্য চিত্র দেখানো হয়। এ সময় উপস্থিত সকলের মাঝেই আবেগঘন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো।
জানা যায়, চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমেদ চন্দ্রপুরী (রহ.) এর একমাত্র পুত্র ও চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ কামরুজ্জামান নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (আল ওয়সী) ২০০৪ সালে হযরত শাহ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে কঠোর পরিশ্রম এবং নিরলস ভাবে আত্মমানবতার সেবায় ফাউন্ডেশনকে নিয়োজিত রেখেছেন। ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম, অসহায় দুস্থ মানুষদের সচ্ছল করার লক্ষ্যে এককালীন আর্থিক সহায়তা, অর্থের অভাবে চিকিৎসা না পাওয়া মানুষদের চিকিৎসা সেবা, এককালীন চিকিৎসা অনুদান, বিভিন্ন দুর্যোগকালীন খাদ্য-বাসস্থান সহায়তাসহ নানা কার্যক্রম।
আরও জানা যায়, চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমেদ চন্দ্রপুরী (রহ.)। তিনি দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠার পর আত্মা শুদ্ধ, দিল জিন্দা, নামাজে হুজুরির শিক্ষার মাধ্যমে অসংখ্য দিশেহারা মানুষকে সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখিয়েছেন। নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে পীরের শিক্ষা ও আদর্শ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করেন উপস্থিত বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন