মিজানুর শামীম:
লক্ষ্মীপুর পৌর ১০/১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার রাস্তা-ড্রেন সংস্কারে নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে কাজ করার সংবাদ দৈনিক বাংলার মুকুল পত্রিকায় গতকাল প্রকাশ হয়। ঘটনাটি জানাজানির পরে কর্তৃপক্ষ তদন্ত নেমেছেন। অদ্য ১৯ জুলাই বেলা এগারোটায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার হোসেন সরেজমিনে গিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজের সত্যতা পান। ঘটনাস্থলেই কাজের সাব ঠিকাদার ফিরোজকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেন দেন। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে ৪ জনকে শোকজ করেছেন পৌর প্রশাসক। এরা হলেন প্রকল্পের তদারকিতে থাকা উপ সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে। এছাড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসহাক এবং আশরাফকে মৌখিকভাবে শোকজ করা হয়েছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন এপ্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন আমরা এ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। মূল ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম কচিকেও শোকজ করা হয়েছে।
জানা যায়, রিজিলিয়েন্ট আরবান এন্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০-১১ নং ওয়ার্ড এলাকার। এতে দুই স্তরে রাস্তার কার্পেটিং, ড্রেন, ফুটপাত ও ষ্ট্রিট লাইট সংস্কার- নির্মাণ কাজের জন্য ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ তিরাশি হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কাজটি ওই এলাকার এএনএম ফজলুল করিম এলাকা থেকে পলিটেকনিক্যাল সড়ক হয়ে ত্রি-মোহনা পর্যন্ত ১০৫০ মিটার ও সাথে লিংক রোড ৯৫০ মিটার সড়কে ইটের কার্পেটিং, ড্রেন, ষ্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত নির্মাণ। এছাড়া রামগতি সড়কের মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক হয়ে ঢাকা-রায়পুর প্রধান সড়ক পর্যন্ত ৮০৪ মিটার ও লিংক ৭৭১ মিটার সড়কে ইটের কার্পেটিং, ড্রেন, ষ্ট্রিট লাইট-ফুটপাত নির্মাণ। কাজটি ৯/১১/২০২৫ তারিখ শুরু হয়ে ৮/২/২০২৭ তারিখ সমাপ্ত হওয়ার কথা।
কাজটির প্রধান ঠিকাদার নোয়াখালীর সোনাপুরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের এম এস মোস্তফা এন্ড সন্স থেকে লক্ষ্মীপুরের ফিরোজ নামে এক ঠিকাদার এটি বাস্তবায়ন করছেন। রাস্তার কার্পেটিং নিম্ন মানের ইট-খোয়া -বালু ব্যবহার করা সম্পর্কে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলার মুকুলকে বলেন, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ন করছেন না। সিডিউল মতোই তিনি কাজ করে চলেছেন। নিম্ন মানের ইটের খোয়া ও ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তার কাজ না করলে কাজে প্রফিট হবে না। কাজের মানের গ্যারান্টি কতো বছর জনাব ঠিকাদার ফিরোজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে ৩০ বছর এই রাস্তার কাজে গ্যারান্টি আর ড্রেনের কাজে ১০০ বছর গ্যারান্টি আছে।
পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা বলেন, রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের সংবাদ জানার পরে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্হা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন