মিজানুর শামীম:
লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার রাস্তা-ড্রেন সংস্কারে নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ১৭ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার ১০- ১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নিম্ন মানের ইট-খোয়া ও ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তায় রোলিং করা হচ্ছে। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি দেখে এলাকার সাধারণ মানুষ ক্যামেরার সামনে এগিয়ে আসেন।
রাস্তা সংস্কারে নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার করায় ঠিকাদারি প্রতিস্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, ৩নং পঁচা ইটের কনা দিয়ে কাজ করার কারণে রাস্তা রোলিং করার সাথে সাথে তা গুড়ি হয়ে যায়। খুবই নিম্ম মানের ইট-খোয়া-বালু ও পুরাতন ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করায় কিছুদিন পরেই এ রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। তাঁরা আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন সংস্কার কাজে ঠিকাদার ফিরোজ ব্যাপক দুর্নীতি- অনিয়ম করে যাচ্ছে। কিন্তু কোথাও কোনো অভিযোগ করে লাভ হচ্ছে না উল্টো পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
জানা যায়, রিজিলিয়েন্ট আরবান এন্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০-১১ নং ওয়ার্ড এলাকার। এতে দুই স্তরে রাস্তার কার্পেটিং, ড্রেন, ফুটপাত ও ষ্ট্রিট লাইট সংস্কার- নির্মাণ কাজের জন্য ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ তিরাশি হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কাজটি ওই এলাকার এএনএম ফজলুল করিম এলাকা থেকে পলিটেকনিক্যাল সড়ক হয়ে ত্রি-মোহনা পর্যন্ত ১০৫০ মিটার ও সাথে লিংক রোড ৯৫০ মিটার সড়কে ইটের কার্পেটিং, ড্রেন, ষ্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত নির্মাণ। এছাড়া রামগতি সড়কের মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক হয়ে ঢাকা-রায়পুর প্রধান সড়ক পর্যন্ত ৮০৪ মিটার ও লিংক ৭৭১ মিটার সড়কে ইটের কার্পেটিং, ড্রেন, ষ্ট্রিট লাইট-ফুটপাত নির্মাণ। কাজটি ৯/১১/২০২৫ তারিখ শুরু হয়ে ৮/২/২০২৭ তারিখ সমাপ্ত হওয়ার কথা।
কাজটির প্রধান ঠিকাদার নোয়াখালীর সোনাপুরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের এম এস মোস্তফা এন্ড সন্স থেকে লক্ষ্মীপুরের ফিরোজ নামে এক ঠিকাদার এটি বাস্তবায়ন করছেন। রাস্তার কার্পেটিং নিম্ন মানের ইট-খোয়া -বালু ব্যবহার করা সম্পর্কে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলার মুকুলকে বলেন, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ন করছেন না। সিডিউল মতোই তিনি কাজ করে চলেছেন। নিম্ন মানের ইটের খোয়া ও ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইটের গুড়ি দিয়ে রাস্তার কাজ না করলে কাজে প্রফিট হবে না। কাজের মানের গ্যারান্টি কতো বছর জনাব ঠিকাদার ফিরোজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে ৩০ বছর এই রাস্তার কাজে গ্যারান্টি আর ড্রেনের কাজে ১০০ বছর গ্যারান্টি আছে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার হোসেনের নিকট এ বিষয়ে মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ কেহ করেনি। সিডিউল মতো এক নম্বর ইট এবং ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ করতে হবে। নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে রাস্তার কাজ করার সুযোগ নেই। তিনি এবিষয়ে এলাকাবাসীকে সোচ্চার হতে বলে আরও বলেন আমাদের তদারকির বাইরে ঠিকাদার যদি নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে রাস্তার কাজ করে তাহলে আমরা বিল বন্ধ করে দিবো।
পৌর প্রশাসকে সম্রাট খীসার নিকট মুঠোফোন একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন