নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাত্র ছয় পূর্বেও ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় ট্যানারি কারখানায় করতেন সাধারণ শ্রমিকের কাজ। তিনি এখন প্রায় কোটি কোটি টাকার মালিক। এ যেন রুপকথার এক গল্প। ঢাকার হাজারীবাগ- কামরাঙ্গীর চর এলাকায় আছে একাধিক প্লট-ফ্লাট। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন সেখানে। গ্রামের বাড়ির এলাকার ওয়াপদা ব্রীজের উত্তরে মেঘনা ব্রিক ফিল্ডের উত্তর- পূর্ব পাশে কিনেছেন ৪৮ শতাংশ জমি। ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব দিঘলী এলাকায় জনৈক ফরহাদ থেকে ৩০ শতাংশ জমি কিনেন। জমিটি বালু ভরাট করে চারপাশে শক্ত ওয়ালের বাউন্ডারি দিয়ে রেখেছেন যা যে কেউ দেখলে চোখে লাগবেই। এছাড়া বাড়ীর আশেপাশের বিভিন্ন স্হানে কিনেছেন বিপুল পরিমাণের সম্পদ। থাকেন ক্ষমতাশীন দলের ছায়াতলে। দু-হাত বিলিয়ে করছেন দান- খয়রাত। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানে স্ব-ইচ্ছায় ব্যানার- ফেস্টুনসহ নানান বিষয়ে আগেও দিতেন এখনও দিয়ে যাচ্ছেন দান- অনুদান। একজন সাধারণ কর্মজীবি শ্রমিকের পক্ষে কিভাবে এতো অল্পসময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণের সম্পদ অর্জন সম্ভব? কি যাদুর বলে হারুন এতো সম্পদ করলেন। সেই প্রশ্ন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু ভয়ে কেহ মুখ খুলে প্রকাশ করার সাহস পান না বিপদে পড়ার ভয়ে। ওই এলাকার স্হায়ী বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি হারুন মোল্লার আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন। গত ২ মে মঙ্গলবার প্রতিবেশী মহিনউদ্দিনের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতারাতি ঘর তুলে আলোচনায় আসেন ‘অভিযুক্ত’ হারুন মোল্লা (৪৪)। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দিঘলী এলাকার মোল্লা বাড়ির মৃত ফয়েজ মোল্লার বড় পুত্র।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী মৌজার আরএস ১৪১০ খতিয়ানে ৫৮৯৯ দাগের ২০ শতাংশ জমির মালিক মৃত সৈয়দ আহমেদ। ওই ২০ শতাংশ জমির কিছু জমি হারুন মোল্লার ঘরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। গত মঙ্গলবার মহিনউদ্দিনদের সেই জমি টুকু জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রাতারাতি টিনসেড ঘর তুলেন হারুন মোল্লা। এমন অভিযোগ করেন প্রতিবেশী মৃত সৈয়দ আহমেদের পুত্র নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৮ সনে বিএসএস পাস করা মহিনউদ্দিন মোল্লা। ৪ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে সেখানে গেলে ১৬ থেকে ২৩ বছর বয়সী কয়েকজন তরুণ ছাত্রদলের পরিচয়ে এ প্রতিবেদকের উপর চড়াও হন। প্রথমে নানানরকম বঙ্গ- বিদ্রুপ করার পরে প্রকৃত সাংবাদিক কিনা করা হয় যাচাই-বাছাই।
পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এসময় ভুক্তভোগী মহিনউদ্দিন (৫০) এ প্রতিবেদককে জানান, হারুন মোল্লার ঘরের দক্ষিণ পাশের জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এখানে সুপারিসহ অন্যান্য গাছ ছিলো। গত মঙ্গলবার আমি বাড়িতে না থাকায় হঠাৎ করে হারুন লোকজন নিয়ে এসে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে। পরে সেখানকার গাছ কেটে অবৈধভাবে মাটি- বালু ভরাট করে জোরপূর্বক টিনসেড ঘর তুলে আমাদের জমি দখলে নিয়েছেন। আমি প্রশাসনসহ সকলের নিকট হারুন মোল্লাগংদের বিরুদ্ধে সুবিচার চাই এবং আমার জমি অবমুক্ত করার জোর দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে শান্ত স্বভাবের ঠান্ডা মাথার হারুন মোল্লা বলেন, যেখানে ঘর উঠিয়েছি ওই জমিটি মহিন কাকাদের তা সঠিক। তবে মহিন কাকাদের বর্তমান রান্না ঘরের সাথে আমাদেরও কিছু জমি আছে যা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সাথে অদলবদল এর মৌখিক কথা হয়ে আছে বলে আমার মা আমাকে জানান। এই কারণে আমি তাদের জমিতে আমাদের রান্না ঘরের জন্য ছোট একটি টিনসেড ঘর তুলেছি। বিষয়টি মহিন কাকার বড়ভাই এডভোকেট সামসউদ্দিন কাকার সাথে আলোচনা করে সমাধান করে ফেলবো। বিপুল পরিমাণ সম্পদের অর্জনের বিষয়ে হারুন মোল্লার নিকট জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
ওই বাড়ির মুরুব্বি শহীদ মাস্টার বলেন, জমিটির প্রকৃত মালিক মহিনউদ্দিনের পিতা মৃত সৈয়দ আহমেদ। ভাড়াটে লোকজন নিয়ে হারুন জোরপূর্বক জমিটি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে। তিনি আরও বলেন ৭/৮ বছর পূর্বে হারুন গ্রাম এলাকার মাঠে মাঠে গোবর খুজতো। আমার বাবাও তাকে একটা চায়ের দোকানে নিয়ে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু সে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।
দিঘলী ইউনিয়নের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, মহিনউদ্দিনদের জমি হারুন জোরপূর্বক দখল করে ঘর করেছে এটা সত্য কথা। হারুনের বিপুল পরিমাণে সম্পদের মালিক হওয়া সম্পর্ক আমি কিছু জানিনা। তবে এটা সত্য যে গত কয়েক বছরে হারুন গ্রামের বাড়িতে দেড়- দুই কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন এবং ঢাকা শহরেও অনেক সম্পদ করেছে।
মহিনউদ্দিনদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক হারুন মোল্লা দখলে নিয়ে ঘর করার অভিযোগের বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোরশেদ আলমের নিকট মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ব্যাপারে এখন পযর্ন্ত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টিতে কেহ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগতভাবে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন