নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুষণে মৃত খাল পুন: খননে ব্যাপক চাঁদাবাজির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের স্টিল ব্রিজ থেকে খাশেরহাট বাজার ও খাশেরহাট থেকে বাবুরহাট বাজার ও আশেপাশের এলাকায় বিপি ৮+ বিপি ১৭+ ও পি-২ পর্যন্ত দখলীয় খাল পুন: উদ্ধার ও দূষণে মৃত খাল খনন গত ২৫ এপ্রিল শুরু হয়। এতে খাল পাড়ের মানুষদের নানাভাবে হুমকি ধামকি ও হয়রানি করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে খাল পুন: খননে দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভুঁইয়ার অনুগত সহচর ফরিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল খনন/পুন: খনন/ সংস্কার প্রকল্পে খালের সীমানা নিয়েও জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন? স্টিল ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া বিপি-৮ খালটির পূর্ব সীমানা প্রতক্ষদর্শীরা বলছেন খাশের হাট বাজার জয়নালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির দেয়াল ঘেঁষে ছিল। কিন্তু বর্তমান যে খালটি পুন: খনন করা হচ্ছে তার সীমানা মাঝি বাড়ি পর্যন্ত। বাকী খালের সীমানার অংশটুকুর পুরোটাই প্রভাবশালী একটি কুচক্রী মহলের দখলে রয়েছে এবং স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর অধিকাংশ ও বিপি খাল পুন: খনন কাজের একাংশ প্রভাবশালীরা দোকানপাট করে অবৈধ দখলে নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিপি ৮+ খালটির পূর্ব সীমানা ২.৮ কি: মি:, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড অবৈধ দখলে থাকা অংশ বাদ দিয়ে ১.৭ কিঃ মিঃ খাল খননের প্রস্তাবনা দিয়েছেন।
সুশীল সমাজের প্রশ্ন কেন পুরো খালটি পুনঃ খননের প্রস্তাবনা দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড? ইচ্ছে করেই দেয়নি, নাকি এর পিছনে অন্য কোন নয়-ছয় লুকিয়ে আছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? কার ইশারায় কুচক্রী মহল অবৈধ দখলে নিয়েছেন? তাঁদের দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে মৃত খালের কিছু কিছু দখলে নিয়েছেন প্রভাবশালী মহল। আদৌ কী মৃত খালের দখলীকৃত অংশটুকু উদ্ধার করা হবে কি? এসব প্রশ্ন এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের।
তথ্য সংগ্রহে সরজমিনে গেলে ভুক্তভোগীরা খাল পুন: খনন তদারকির দায়িত্ব থাকা ফরিদের সামনেই চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন, এতে স্হানীয় জনরোষের তোপে পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্ত ফরিদ।
খালটি খননকালে পিআইওসহ যাদের তদরকি করার কথা তাদেরকে সার্বক্ষণিক দেখা যায়না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনৈক ফরিদ উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভুঁইয়ার প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এলাকার ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলে বলেন, যারা গাছ কাটছে এবং যারা তদারকি করছে তাদের মধ্যে ভুলু ও ফরিদ বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভুঁইয়ার লোক পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে চলছে। তাঁদের চাঁদাবাজিতে আমরা অতিষ্ঠ। জামাল মাঝির ছেলে বলেন, আমার আব্বু থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। আরেকজন ভুক্তভোগী রাজ্জাক মাঝি বলেন, আমার থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা এবং আমার বড় ভাবির থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে এছাড়াও সুফিয়ান মুন্সি থেকে ৬ হাজার টাকা, ইমাম হোসেন থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সন্তোষজনক হারে টাকা না দিলে আমাদের হাজার হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যাবে, মাটির নীচে পুতে ফেলার হুমকি সহ নানাভাবে হয়রানি করছে।
বেকু চালক ইলিয়াস বলেন, তদারকির দায়িত্বে থাকা ফরিদ আমাদের নাম ভাঙিয়েও ভুক্তভোগীদের থেকে বেপরোয়াভাবে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছেন, কিন্তু এর দায় আসছে আমাদের গায়ে অথচ আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমাদেরকে চাঁদাবাজির একটা টাকাও দেয়া হচ্ছেনা। শুধু শুধু আমাদের গায়ে অপবাদ আসছে। আমরা চাই ফরিদের বিচার হোক।
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ বলেন, আমি বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভুঁইয়ার নির্দেশে খাল খননের তদারকি করছি, সবকিছুর হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছি। আমার উপর চাঁদাবাজির অভিযোগটি মিথ্যা। তবে আমার পূর্বে যারা গাছ কাটছে তারা কিছু টাকা নিয়েছিল সেগুলো ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কারো থেকে কোন টাকা নেওয়া হচ্ছে না। টাকার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তবে অভিযুক্ত ফরিদের এ কথা শুনেই উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে জনরোষের তোপে পরে কোন সদুত্তর দিতে না পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্ত ফরিদ।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখনই ফরিদকে ডেকে বিষয়টি দেখবো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খননের বিষয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদেরকে যতটুকু সীমানা দিয়েছে আমরা ততটুকু খনন করছি।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, খাল খননে তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির টাকা নেয়ার বিষয়টিতে আমি অবগত নই। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে সাত কর্ম দিবসের সময় দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে নিজ উদ্যোগে সবাই অবৈধ স্থাপনা সড়িয়ে নিবে। আদেশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের সীমানার বিষয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যে সীমানা দিয়েছে সে পর্যন্ত খাল পুন: খনন করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান বলেন, বিপি ৮+ খালটির বিষয়ে এক্ষুনি কিছু বলতে পারবো না। এ বিষয়ে জানতে হলে আমাকে সময় দিতে হবে। অবৈধ দখল কীভাবে কারা নিয়েছেন? এর দায় কার সেটা জেনে তারপর বলতে পারবো।
মন্তব্য করুন