নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে মব সৃষ্টি করে মারধর এবং এনসিপির অন্য নেতা তানজিম হোসেন ইমনের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সরকার দলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে। দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা মারধরের শিকার ভুক্তভোগী আনোয়ারের বিরুদ্ধেই উল্টো থানায় মামলা করার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুলাই আন্দোলনের সংগঠক ঢাকার রাজপথের জুলাই যোদ্ধা আনোয়ারকে মব সৃষ্টি করে মারধর করায় দেশের সাধারণ মানুষের ভিতরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়ের ভূঁইয়ার নানানরকম অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনসম্মুখে সোচ্চার ছিলেন এনসিপি নেতা ও জুলাই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে নিজ জন্মস্থানে আসেন আনোয়ার হোসেন। শুক্রবার (৩০ মে) রাতে স্হানীয় বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আনোয়ার সাথে তর্কে জরিয়ে তাকে বেদম মারধর করে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আনোয়ার হোসেন বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুকে ফোনে জানালে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আনোয়ার হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় তিনি এনসিপির আরেক নেতা তানজিম হোসেন ইমনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে ওই বাড়িতে মব সৃষ্টি করে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে আনোয়ার হোসেন ও তানজিম হোসেন ইমনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে সরকার দলীয় লোকজন। পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময়ও এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকেরা। জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেতা আনোয়ার ও তাঁর সহযোদ্ধাদের পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন বলে জানা গেছে। আনোয়ার ও ইমনের উপর হামলার সময় আহাদ নামে তরুণ এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে সন্ত্রাসীর তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে পুলিশ মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মারধরের ভিডিও ডিলেট করার পরে মোবাইল ফোনটি ফেরত দেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিল বলেন, তার উপর হামলার ঘটনাটি আমরা জেনেছি, আমরা লক্ষ্মীপুরে আমাদের কমিটির সাথে বসে পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে জানাতে পারবো।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শাহীন মিয়ার নিকট মুঠোফোন জুলাই যোদ্ধা আনোয়ারের উপর মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা করে মারধর ও বাড়ীঘর ভাংচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি করায় স্হানীয় এক ব্যক্তি সাইবার সিকিউরিটি আইনে আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তথ্য চেয়েছেন তথ্য দিয়েছি। এর বেশি বলতে পারবো না বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আবার ফোন করলে তিনি কেটে দেন।
এবিষয়ে লক্ষ্মীপর পুলিশ সুপারকে মুঠোফোন একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো: মনিরুজ্জামানের নিকট এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখন মন্ত্রীর সাথে একটি অনুষ্ঠানে আছি আপনি জেলা পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেন।
মন্তব্য করুন