নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচের পানি সাশ্রয় এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে AWD (Alternate Wetting and Drying) প্রযুক্তির সফলতা কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার একটি বোরো ধান ক্লাস্টারে AWD প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুম কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডির (IFAD) সহায়তায় পরিচালিত কৃষি উৎপাদন ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রায়পুর উপজেলায় বোরো ধানের ক্লাস্টারভিত্তিক আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৫০ হেক্টর। তবে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ফলে আবাদ হয়েছে ৭০০ হেক্টর জমিতে।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের AWD প্রযুক্তির ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফলন বৃদ্ধির নানা দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রযুক্তি অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমায় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
কৃষি বিভাগ জানায়, রায়পুরে AWD প্রযুক্তি সম্প্রসারণে PARTNER প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ধান চাষি ফিল্ড স্কুল, সেশন ও প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রদর্শনী চাষিদের সফলতা দেখে সাধারণ কৃষকরাও এ পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, AWD প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বোরো ধানে সেচের পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে কৃষকের লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “রায়পুর উপজেলায় বোরো ধানে AWD প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচের পানি সাশ্রয়, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফলন ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হওয়া কৃষকদের আগ্রহ ও মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল। ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষকের মাঝে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।”
উপস্থিত কৃষকরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং আগামীতে আরও বেশি জমিতে AWD প্রযুক্তি অনুসরণ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন