
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুরের পৌর ৫নং ওয়ার্ডস্হ বালিকা বিদ্যা নিকেতনের কৃতি শিক্ষার্থীদের ২২ আগস্ট শনিবার বিকেলে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সকল শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৬ সনের এ প্লাস প্রাপ্ত তিনজন শিক্ষার্থী ও ষষ্ঠ শ্রেনির ৬ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বিশেষ সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি এডভোকেট এ.এস.এম ইলিয়াস হাওলাদার অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ সভাপতি এডভোকেট ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রওশন জামিল শিপু, পৌর বিএনপি সদস্য সচিব মনছুর আহমেদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি খালেদ মোহাম্মদ কিরন ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন দেবনাথ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান শামীম। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেনির শিক্ষার্থী সুমাইতা রহমান, গীতা পাঠ করেন নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ, অনুষ্ঠানে এসএসসি ২০২৬ সনে এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী শোভা দত্ত বনিক, অথৈই রানী সাহা ও তৃষ্ণা সুরকে ভালো ফলাফল জন্য পুরস্কৃত করে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেনিতে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি প্রাপ্ত জান্নাতুল মাওয়া মাহী, জায়মু ইসলাম ওহী, জান্নাতুল মাওয়া তাসনিম ও সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পাওয়া সাবিহা ইসলাম আরফা, ফারজানা আক্তার, সুজানা তাসবিকেও ভালো ফলাফল করার জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে নাস্তা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তোমাদের এই অর্জন স্কুলের, শিক্ষকদের, এমনকি তোমাদের পরিবারেরও। কিন্তু সবচেয়ে বড় সত্য হলো– এই অর্জনের মূল কারিগর তোমরা নিজেরা। আমরা কেবল দিকনির্দেশনা দিতে পারি, পথ দেখাতে পারি। কিন্তু হাঁটা তো তোমাদেরই কাজ ছিল। তোমাদের প্রতিদিনের পরিশ্রম, সময়মতো ক্লাসে আসা, প্রশ্ন করা, ভুল করা আর সেগুলো থেকে শেখা—সবকিছু আজ একত্রে এই মঞ্চে নিয়ে এসেছে। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তোমাদের জন্য শুধু পুরস্কার নয়, এটা একটি প্রমাণ— তোমরা পারো, এবং ভবিষ্যতেও পারবে। জীবনের পথে সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, অনেক সুযোগ আসবে— যেখানে এই শেখার অভ্যাস, এই পরিশ্রমের মানসিকতা তোমাদের শক্তি হয়ে পাশে থাকবে। তোমাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে—এই অর্জন যেন তোমাদের গন্তব্য না হয়, বরং আরও বড় স্বপ্নের শুরু হয়। আর এই স্বপ্নে যেন থাকে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম। তোমাদের এই সাফল্যে আমরা আনন্দিত। তোমরা এগিয়ে যাও-।
বক্তার আরও বলেন, পড়াশোনায় ভালো ফলের ধারা অব্যাহত রেখে জীবনে সফল হবে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে। তোমরাই আগামীর বিশ্ব। কথায় নয়, সততার সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে জয়ী করতে হবে। তোমাদের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে এগোতে হবে। মানুষের প্রতি মানবিকা ও কৃতজ্ঞতাবোধ থাকতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর মানুষ যেমন হতে হবে, তেমনি সৃষ্টিকর্তা, মাতৃভূমি বাংলাদেশ, মা-বাবা, পরিবারের স্বজন-প্রতিবেশীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা জানতে হবে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিশ্রম করতে হবে। তোমাদের মানবিক মানুষ হতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে সম্মান করতে হবে। ধৈর্যশীল ও আরও পরিশ্রমী মানুষ হয়ে তোমাদের নিজেদেরকে ভবিষ্যতে জন্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন