
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পুত্রবধূ ও নাতির হামলায় ফয়জুননেসা (৮০) নামে এক বৃদ্ধা এবং তার মেয়ে আমেনা বেগম (২৬) আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
রোববার(৯ আগষ্ট) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা ফয়জুননেসা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসে থাকা তার দুই ছেলের নির্দেশে তাদের স্ত্রী ও ছেলে শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে এ হামলা চালায়। এর আগেও তিনি তাদের হাতে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। হামলায় অভিযুক্তরা হলেন-বৃদ্ধার দুই পুত্রবধূ জোসনা বেগম, নাইমা বেগম এবং নাতি মো. রিপন (২৬)| জোসনা বেগম প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী, নাইমা বেগম প্রবাসী ফয়েজ আহাম্মদের স্ত্রী এবং রিপন শাহ আলমের ছেলে।
জানা গেছে, ফয়জুননেসার চার ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মো. নুরনবী মারা যান। এর পর থেকে তিনি ছেলেসহ উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ নং ওয়ার্ড এলাকার একই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে শাহ আলম ও ফয়েজ আহাম্মদ প্রবাসে থাকেন।
গেল কয়েক বছর ধরে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে প্রবাসী দুই ছেলের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছে। ঘটনার সময় পুত্রবধূ জোছনা ও নাইমা বৃদ্ধার আবাদ করা সবজি বাগান বিনষ্ট করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এর একপর্যায়ে দুই পুত্রবধূ ও নাতি রিপন একত্রিত হয়ে বৃদ্ধার ওপর হামলা চালান। এসময় বেড়াতে আসা বৃদ্ধার ছোট মেয়ে আমেনা বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে বৃদ্ধাসহ তার মেয়ে আহত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা ফয়জুননেসার মেয়ে আমেনা বেগম বলেন, প্রবাসে থাকা তার দুই ভাই মায়ের ভরণপোষণ দিচ্ছে না। আমার মা তাদের নামে বাড়ির জমি লিখে দিচ্ছি না বলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের দিয়ে আমার মায়ের ওপর হামলা করিয়েছে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধোর করে। এর আগেও তারা আমার মাকে একাধিকবার মারধোর করেছিল। এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে হামলায় অভিযুক্ত মো. রিপন জানান, দাদার মৃত্যুর আট বছর পার হলেও দাদী ফয়জুননেসা তাদেরকে ওয়ারিশি কোনো সম্পদ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এটা নিয়ে দাদীর সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। তবে, ঘটনার সময় শিমের চারা রোপন নিয়ে তার মা ও চাচীর সঙ্গে দাদী ফয়জুননেসার কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধোরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেননি। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।