মাহমুদুর রহমান মনজু :
রমজান মাসজুড়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। পহেলা রমজান থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রাম থেকে আসা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে তাঁর কার্যকর উদ্যোগ জনসাধারণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। সীমিত আমদানির মধ্যেও প্রশাসনের তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন মালিকরা সুষমভাবে তেল বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশন, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশন ও ফিরোজ ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্প এবং কিছু ডিলার চাঁদপুর থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করে থাকে। সংকটময় এই সময়ে পাম্প মালিকদের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রশাসনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের আগে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস ও পিকআপ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্প মালিকরা প্রশাসনের সহায়তা চান, যার ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশনের মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের উপস্থিতির পরই সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ শুরু হয়। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে যানবাহনগুলোকে পৃথক লাইনে দাঁড় করিয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করেন। এতে করে মোটরসাইকেল ও ভারী যানবাহন চালকরা সহজেই তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
তিনি জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া পাম্প মালিকদের পক্ষে তেল বিতরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ তেল নিতে আসা জনসাধারণের মধ্যে প্রতিযোগিতা থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের মতে, প্রশাসনের উপস্থিতি তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এতে তারা নির্বিঘ্নে তেল বিক্রি করতে পারছেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে না।
তেল নিতে আসা চালক ও সাধারণ মানুষও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার কারণে যানজট কমেছে এবং দ্রুত তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
সার্বিকভাবে প্রশাসনের তৎপরতা, ফিলিং স্টেশন মালিকদের সহযোগিতা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি বিতরণ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মন্তব্য করুন