মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় আটক চার সন্দেহভাজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাত ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় শাহ আলম নামের এক রিকশাচালক ইফতারের জন্য তার অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে রেখে যান। কিছুক্ষণ পর রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং অটোরিকশাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ব্যাটারিগুলো আগেই অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যাটারি উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয়রা আটক ব্যক্তিদের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মোতালেব, কনস্টেবল শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সরে যায়। পরে এলাকাবাসী চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
রিকশাচালক শাহ আলম অভিযোগ করেন, ব্যাটারি উদ্ধারের দাবিতে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা হয়েছিল। পুলিশ জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের ১৫-১৬ জন আহত হন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তদের থানায় নেওয়ার সময় ২০-৩০ জন ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি আরও জানান, আটক চারজন বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। অটোরিকশা চুরির ঘটনায় মালিককে মামলা করতে বলা হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন। সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সড়ক অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন