সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি :
চারিদিকে আমের মুকুলের পাগল করা মৌ মৌ গন্ধ যেন বসন্তের আগমনী বার্তার জানান দিচ্ছে। প্রকৃতিতে এখন শীতের আমেজ। শীত যেতে না যেতেই আমের মুকুল জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। সারা দেশের মতো ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগঞ্জের বাগানগুলোতে নানা প্রজাতির আম গাছে এখন সবুজ পাতা ভেদ করে বেরিয়ে আসছে আম চাষিদের সোনালী স্বপ্ন।

তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন। দেশি আমের পাশাপাশি আম্রোপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আম অন্যতম। প্রকৃতির মতে মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। তবে গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আম গাছে আমের মুকুল বের হতে শুরু করেছে। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন আম চাষিরা। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আম চাষিরা জানিয়েছেন, আমরা বাড়তি ফলন ফলানোর জন্য আমের মুকুলকে স্প্রে করছি, যেন ভালো মুকুল হয়। এরপূর্বে কয়েক মাস আগে আমরা গাছের গোড়ায় জৈব সারসহ সেচ দিয়েছি। তারা আরো বলেন, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম সংগ্রহ পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে।
আব্বাস সেখ নামে এক আম চাষি বলেন, ‘আমের মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে। এটা অব্যাহত থাকলে এবারো আমের বাম্পার ফলন ও উৎপাদনে লাভের মুখ দেখা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বাগানের গাছগুলোতে ৩০ ভাগ আমের মুকুলে ভরে গেছে। তবে ঘন কুয়াশা বা কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে আমের ভালো ফলন হবে। আমের মুকুল রক্ষায় পোকা দমনে বালইনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন