নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শহরের সোনাপুর ফায়ার সার্ভিসের সামনের ব্রীজ থেকে পৌর শিশু পার্ক ব্রিজ পর্যন্ত এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে সড়ক মেরামত এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে বিশাল বিশাল গর্ত ও খানাখন্দে সয়লাব। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত নানানরকম দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে এ সড়কটি। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এবং বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ চালু হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারণে সংস্কার কাজটি বর্তমানে লেজে গোবরে অবস্থা। এ সড়ক দিয়েই রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে হাসপাতাল, অফিস, ব্যাংক, স্কুল- কলেজে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান চালকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে করে। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি পেড়েছে চরম পর্যায়ে। সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ, রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
রামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র আনোয়ার হোসেন জানায়, স্কুলজীবন থেকে এই সড়কের বেহাল দশা দেখে আসছি। দীর্ঘদিন সংষ্কার না হওয়ায় ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। আর সংস্থার হলেও বছর না ঘুরতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। পরে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ ভোগান্তি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
বাজারের ফল ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এটি রামগঞ্জের প্রধান বানিজ্যিক সড়ক হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও ক্রেতারা আসতেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে ক্রেতারা এখন বাজারে আসতে চান না, যার ফলে এ উপজেলার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটির কারণে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দিচ্ছি কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য। এ সড়ক সংষ্কারে ধীরগতি হওয়ার কারণে সাধারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে কটু কথা বলছে।
এ সড়কের তদারকি কর্মকর্তা সড়ক ও জনপথের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাবের হোসেন জানান ৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার সংস্কার কাজ আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ততম হওয়ায় আমাদের অনেক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথের রামগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। উক্ত সড়কের একটি অংশ ৯১২ মিটার (বাজার অংশের প্রায় এক কিলোমিটার) কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ত হওয়ার কারণে কাজ করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি শ্লো হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে আশা করছি আগামী ১৪/১৫ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হবে।
মন্তব্য করুন