banglarmukul
২৩ মে ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ নিয়োগে শিক্ষকের ২৮ বছর চাকুরী, ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে চিঠি

মিজানুর শামীমঃ

অবৈধভাবে নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৮ বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকুরী করছেন এমন প্রমাণ উঠে এসেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে। এবিষয়ে রায়পুরের মিতালি বাজারস্হ মডেল একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়ার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নানানরকম অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক মো: বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, ১৭/৯/১৯৯৮ তারিখের দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রায়পুরেের মিতালী বাজারস্হ মডেল একাডেমি (এমপিওভুক্ত) স্কুলের জন্য একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে আবেদন চাওয়া হয়। ওই আবেদনে সকলরকম যোগ্যতা পূরণ ছাড়া অকৌশলে তিন জনের প্যানেল করে নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: বিল্লাল হোসেন অবৈধভাবে চাকুরী হাতিয়ে নেন।
জানা যায়, পত্রিকায় প্রকাশিত স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটিতেও সরকারি বিধি মোতাবেক কথাটি উল্লেখ করা ছিল না যা নিয়ম বহির্ভূত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল বিএসসি (গণিত), কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন ছিলেন স্নাতক (মানবিক)
নিয়োগ সার্কুলারে বলা হয়েছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিন্তু উনি ছিল বিএড ফল প্রার্থী কোন প্রশিক্ষণ ছিল না। ৮/১০/ ১৯৯৮ তারিখে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া নিয়োগ পত্রে কোন স্মারক নং উল্লেখ ছিল না। আবেদন পত্র এবং যোগদান পত্রে একই প্রার্থীর হাতের লেখা নেই। যোগদান পত্রটিতে অন্যের হাতের লেখা। যা নিয়ম বহির্ভূত।
সহকারী প্রধান শিক্ষকের নূন্যতম যোগ্যতা বিধি মোতাবেক কোন অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রিসহ বিএড এবং শিক্ষকতা অথবা শিক্ষা প্রশাসনে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা। অথবা কোন অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে স্নাতকসহ বিএড ডিগ্রি এবং শিক্ষকতা বা শিক্ষা প্রশাসনে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা। কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন উক্ত পদে নিয়োগকালে এবং আবেদনকালে বিএড পাশ ছিলেননা। কিন্তু উক্ত পদের জন্য প্রয়োজন সহকারী শিক্ষক পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা যা উনার ছিলনা৷ বেসরকারী শিক্ষক / কর্মচারী চাকুরী বিধি ১৯৭৯ (১) বিধান মতে উক্ত পদে নিয়োগ পরিক্ষার সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিযোগী প্রার্থী অন্তত ৩ জন ছাড়াই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন যা বিধি বহির্ভূত।
এছাড়া ১৯৯৮ সালে চাকুরী হলেও উনি প্রথম এমপিও পান ২০০১ সালে।
উনার সঙ্গে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারী মিতা রানী দাস বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং বিধি অনুযায়ী ঐ সময়ে আমি আবেদনের জন্য যোগ্য ছিলাম না। কারণ, আমার তখন শিক্ষকতা পেশায় ৮ বা ১০ অভিজ্ঞতা ছিলনা, তবে বিএড প্রশিক্ষন ছিল। স্কুল কমিটির সভাপতি বলেছিল আমাকে যেভাবে হোক নিয়োগ দিবে সেজন্য আবেদন করি, বিল্লাল হোসেনের নিয়োগের পরে জানতে পারি সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের নিয়োগ বৈধ করতে আমাকে দিয়ে প্যানেল করে আবেদন করিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল।
ওই পদে অপর একজন আবেদনকারী জহোর লাল অধিকারী বলেন, ১৯৯৮ সালে ঐ স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ তো দূরে থাক আমি সে সময়ে চাকুরির জন্য কোন আবেদনই করিনি। আমার আবেদন, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, ফলাফল সবকিছুই ছিল ভুয়া এবং নিয়োগ কমিটির পরিকল্পিত সাজানো। আমি এখন জানতে পারলাম যে, আমিও ঐ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের একজন প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কে বা কাহারা কীভাবে আমার আবেদন দেখিয়েছেন তা আমি অবগত নই। তবে ১৯৯১ সালে ঐ স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে একটা আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনটি ১৯৯৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দেখিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
চাকুরী পাওয়ার পর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেন সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন। অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে জানতে স্কুলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, কোন ধরনের ছুটির দরখাস্ত না নিয়েই নিজের মর্জি অনুযায়ী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের নিকট মুঠোফোন বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এগুলো ভুয়া ও মিথ্যা অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। কে বা কাহারা চক্রান্ত করছে জানতে চাইলে আমি এখন কাজে ব্যস্ত আছি পরে জানাবো বলে তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমি স্কুলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র অফিসে পাইনি। আমার দায়িত্বের পূর্বে সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন দু’বার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। উনার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয় আমি কিছুই অবগত নই। তবে যতটুকু শুনেছি উনার নিয়োগ বিধি বহির্ভূত হয়েছে। স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, বিল্লাল হোসেন আমার কোন আদেশ মানেন না, উনি উনার ইচ্ছেমত স্কুলে আসেন, উনাকে কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র বলেন, অধিদপ্তরের চিঠি পেয়ে আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আমার তদন্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের নিয়োগটি অবৈধভাবেই হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে আমার তদন্ত উঠে আসা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। শিক্ষক বিল্লাল হোসেনে চাকুরির বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিবে সেটা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে রায়পুরে কর্মশালা

রায়পুরে ৫৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

অবৈধ নিয়োগে শিক্ষকের ২৮ বছর চাকুরী, ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে চিঠি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রায়পুরে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

এক হাজার টাক চাওয়া নিয়ে মারামারি থানায় মামলা

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন কলেজে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে আদালতে মামলা

লক্ষ্মীপুরে কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে ৩২ জন নির্বাচিত

লক্ষ্মীপুরে স্বাস্থ্য সহকারী নূরুল আলম রূপকের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া

লক্ষ্মীপুরে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

১০

আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে হামলা,পরিবার নিরাপত্তা সংকটে!

১১

লক্ষ্মীপুরে মারামারির ঘটনায় মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে

১২

সহজ কিস্তির ফাঁদে নিঃস্ব গ্রাহক, লক্ষ্মীপুরজুড়ে মোবাইল বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ

১৩

কমলনগরে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

১৪

জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি রায়পুর থানার শাহীন মিয়া

১৫

রামগতিতে ‘গরিবের সারু প্রফেসর’-এর বাড়িতে হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি

১৬

লক্ষ্মীপুরে তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যগাঁথা: লিটনের ডেইরি খামারে স্বপ্নের বাস্তবায়ন

১৭

রায়পুরে ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা, ৭৬০ শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে চিন্তায় অভিভাবক

১৮

রায়পুরে খুন ঢাকতে ‘বানর নাটক’, সমালোচনার ঝড়

১৯

কমলনগরে অবৈধ মজুদের অভিযোগে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন,ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক

২০