মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আশরাফ আলী চৌধুরী (সারু)-এর বাড়িতে গভীর রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক হামলা উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। অভিযোগ উঠেছে, ড. আশরাফ আলী চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় প্রতিপক্ষের সমর্থকরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ড. আশরাফ আলী চৌধুরী রামগতি উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামের মরহুম হাজী খুরশিদ আলী মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড, সমাজসেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।

তার স্ত্রী ঢাকায় শিল্পকারখানা পরিচালনা করছেন। দুই মেয়ে চিকিৎসক (এমবিবিএস) এবং এক ছেলে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
পুরো নাম ড. আশরাফ আলী চৌধুরী হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি “গরিবের সারু প্রফেসর” নামেই বেশি পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার গরিব, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। কারও দুঃখ-কষ্টের কথা শুনলেই তিনি সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।
্
এমন একজন মানবিক ব্যক্তির বাড়িতে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, সমাজে মানবিক ও দানশীল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিরাপত্তা বাড়বে।
এদিকে আশরাফ আলী সারুর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি শুনেছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্তব্য করুন