মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে “সহজ কিস্তিতে মোবাইল ফোন” দেওয়ার নামে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মোবাইল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকা, চন্দ্রগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতিতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির নাম ও লোগো ব্যবহার করে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

প্রায় দুই বছর আগে শুরু হওয়া এই কিস্তি ব্যবসা প্রথমদিকে সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দোকানের সামনে বড় বড় ফেস্টুন, ব্যানার ও লিফলেটে লেখা থাকত—
“মাত্র একটি এনআইডি কার্ডেই সহজ কিস্তিতে মোবাইল ফোন!”
এমন আকর্ষণীয় প্রচারণায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সহজেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ব্যবসায়ীরা তিন মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত কিস্তির সুবিধা দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোবাইল সরবরাহ করলেও পরে শুরু হয় নানা জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়, কিস্তি পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই হুমকি, মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হচ্ছেন অনেক ক্রেতা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে মোবাইল বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কিস্তির চুক্তিপত্র স্পষ্ট না থাকায় গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ কয়েকটি কিস্তি বাকি থাকতেই মোবাইল জব্দ কিংবা অতিরিক্ত জরিমানার মুখেও পড়েছেন।
সরজমিনে লক্ষ্মীপুরের “মোবাইল পার্কিং গেজেট” নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে দেশে অন্তত পাঁচটি কোম্পানি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সহজ কিস্তির মাধ্যমে সরবরাহ করছে। এসবের মধ্যে টেকনো, ইনফিনিক্স, অপ্পোসহ আরও কয়েকটি চায়না কোম্পানির তৈরি মোবাইল ফোন রয়েছে। জেলার বিভিন্ন মোবাইল ব্যবসায়ী আকর্ষণীয় অফার ও সহজ কিস্তির প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে মোবাইল কিনতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
এমন প্রচারণা দেখে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ কিস্তিতে মোবাইল কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুরের এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে যেভাবে লোভনীয় সুবিধা ও আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে মোবাইল কিস্তিতে দেওয়া হচ্ছে, তাতে গ্রাহকদের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, “ক্রেতা যখন কিস্তির ব্যাপারে জানতে আসে, তখন ব্যবসায়ীরা মূলত কিভাবে তাকে আকৃষ্ট করে মোবাইল বুঝিয়ে দেওয়া যায় সেটাই বেশি গুরুত্ব দেয়।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একজন ক্রেতা কিস্তিতে মোবাইল নিতে গেলে প্রথমে বলা হয় শুধু এনআইডি কার্ডের ফটোকপি অথবা এক কপি ছবি হলেই হবে। পরে মোবাইল নেওয়ার পর দেখা যায় নির্ধারিত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। অথচ কিস্তির নিয়ম-কানুন, জরিমানা কিংবা ঝুঁকির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে সামান্য ডাউন পেমেন্ট নিয়েই চার মাস, ছয় মাস কিংবা ১২ মাসের কিস্তিতে মোবাইল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলেই শুরু হয় নানা জটিলতা।
লক্ষ্মীপুর বাদার্স টেলিকমের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা যায়। মোবাইল ফোন কিস্তি দিচ্ছেন ভালো কথা এতে আপনাদের লাভ কি মোবাইল ব্যবসায়ী উত্তরের জানিয়ে দিলেন আমরা কমিশন পাই। তবে এ মোবাইল ফোন কিস্তির আওতায় পাঁচ শ্রেণীর লোককে কিস্তির আওতায় আনা যাবে না – সাংবাদি-পুলিশ-রাজনীতিবিদ -কোর্টের উকিল -এবং জনপ্রতিনিধ.
এই কারণে আমরা মাঝে মাঝে কিছু পরিচিত আত্মীয় অথবা বন্ধু-বান্ধব যারা এই পাঁচটি পেশার সাথে জড়িত তাদেরকে মোবাইল ফোন কিস্তি দিতে গেলে একটু ঝামেলা পোহাতে হয়। আর সেই কারণেই প্রত্যেকটি ফর্মে অথবা অ্যাপসে এই ধরনের পাঁচ শ্রেণীর জনসাধারণকে আমরা কৃষক অথবা মোদী ব্যবসায়ী লিখে ফরম পূরণ করি।
রায়পুরের এক মোবাইল ব্যবসায়ী জানান, “আমাদের কাজ শুধু মোবাইল কিস্তিতে দেওয়া। এরপর পুরো বিষয়টি কোম্পানি অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।জানতে চাইলাম এভাবে মোবাইল ফোন কিস্তি দেওয়া সরকারি অনুমোদন বা অনুমতি আছে কিনা তিনি জানালেন সেটা আমার দেখার বিষয় না সবকিছু কোম্পানি বলতে পারবে।
রামগঞ্জ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জুয়েলের সাথে কথা বলে জানা যায়।মোবাইল ফোনের নামে যে কিস্তিটা দেওয়া হচ্ছে এই কিস্তিতে সম্পূর্ণ অবৈধ ঝামেলা যুক্ত মানুষকে নিঃস্ব করার একটি ফাঁদ মাত্র। আমার মত অনেক ব্যবসায়ী বসে আছে বাজারে দোকান খুলে অথচ আমাদের বেচা বিক্রি নেই তুলনা মূলকভাবে অনেক কম কারণ হচ্ছে মানুষ ঝুঁকে পড়ছে কিস্তিতে মোবাইল কিনার প্রতিযোগিতা।
কোনো গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করলে অটোমেটিক তার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।”
এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, সহজ কিস্তির নামে সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে মোবাইল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিস্তির বোঝা টানতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও সরকারি নজরদারি জরুরি। অন্যথায় “সহজ কিস্তি” সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ফাঁদে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য করুন