মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পরিবেশবান্ধব ব্লক সড়ক নির্মাণের ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। আগে যেখানে কাঁচা বা পিচঢালা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হতো, সেখানে এখন মসৃণ ও টেকসই ব্লক সড়ক গ্রামীণ জনপদে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও গতি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ব্লক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যেত, চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। এখন ব্লক সড়ক হওয়ায় বছরের যেকোনো সময় সহজেই চলাচল করা যাচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
বশিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা মোরশেদ আলম বলেন, “আগে রাস্তায় হাঁটা বা যাতায়াত করা খুব কষ্টকর ছিল। এখন ব্লকের রাস্তা হওয়ায় খুব সহজে চলাচল করা যায়। বৃষ্টিতেও কোনো সমস্যা হয় না।”
পার্বতীনগর এলাকার ভ্যানচালক কিরন জানান, “আগে কাঁচা রাস্তায় গাড়ি চালাতে অনেক কষ্ট হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন ব্লক সড়কে সহজে ও দ্রুত চলাচল করা যায়। এতে আমাদের আয়ও কিছুটা বেড়েছে।”
এছাড়া ব্যবসায়ীরাও এই উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ভালো রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে, সময় ও খরচ কমেছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, “গ্রামীণ জনগণের চলাচল সহজ করতে আমরা ব্লক সড়ক নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। ভবিষ্যতে আরও নতুন এলাকায় এ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হবে।”
সব মিলিয়ে ব্লক সড়কের কারণে লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ জনপদে মানুষের চলাচল এখন অনেকটাই সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। এ উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন