মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরে মাত্র ৮০০ টাকা চুরির সন্দেহে দুই শিশুকে হাত বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে এক শিশুর মুখে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের দক্ষিণ মার্কাস মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আহত দুই শিশু হলো—সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার আবদুস সহিদের ছেলে মুজাহিদ হোসেন (৯) এবং ভবানীগঞ্জের চরউভূতি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে জিহান হোসেন (১২)। মুজাহিদ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জিহান একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। বর্তমানে তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মার্কাস মসজিদ এলাকায় মনির হোসেনের মুদি দোকান থেকে ৮০০ টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুই শিশুকে আটক করে মনির ও তার সহযোগীরা। পরে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে তাদের হাত বেঁধে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বড় শিশু জিহানের মুখে জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
নির্যাতিত শিশুদের স্বজনরা জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের ছাড়িয়ে নিতে চাইলে অভিযুক্ত মনির হোসেন জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১টার দিকে শিশুদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের দাবি, শিশুরা চুরির সঙ্গে জড়িত নয়; শুধুমাত্র সন্দেহের বশে তাদের ওপর এই নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মনির হোসেন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার দোকান থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় তারা স্বীকার করেছে। আমি শুধু একটি থাপ্পড় দিয়েছি, এর বেশি কিছু করিনি।”
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এক শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকার স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন