স্টাফ রিপোর্টার :
লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ছয়টি ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের নেতারা নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের পুরাতন আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ব্যালট পেপারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
ঘটনার পর রাতে শহরের গোডাউন রোডস্থ বশির ভিলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দাবি করেন, গ্রেপ্তার সোহেল রানা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হতে পারেন এবং তার পদ-পদবীও থাকতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে এ্যানি বলেন, শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, সারাদেশে বিএনপির নির্বাচনী অগ্রগতি দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভোটে কারচুপির চেষ্টা করছে। জব্দ করা ছয়টি সিল কে তৈরি করেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার পেছনে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক নেতার ইন্ধন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি জাল ভোট ও জালিয়াতি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. রেজাউল করিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বিএনপির আনা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, গ্রেপ্তার সোহেল রানা জামায়াতে ইসলামীর কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মী নন এবং সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে না জড়িয়ে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জামায়াত জড়িত নয়। তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
উভয় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন