মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে তাঁর দল সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হলে মাত্র এক রাতের ব্যবধানেই দেশের চিত্র পাল্টে দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় লক্ষ্মীপুর সরকারি সামাদ স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের আমানত ও ভোটে আমরা নির্বাচিত হলে ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশ বদলাতে শুরু করবে। দেশের অন্তত ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।”
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব হয়েছে বলেই আজ আমরা কথা বলতে পারছি, ভোট দিতে পারছি। রাজার ছেলে রাজা হবে—এই ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন রিকশাচালকও তাঁর যোগ্যতা দিয়ে এমপি বা মন্ত্রী হতে পারবেন।”
জনসভা শেষে জামায়াত আমির লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এ সময় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের প্রার্থী এনসিপি নেতা মো. মাহবুব আলমের হাতে শাপলা কলি, লক্ষ্মীপুর-২ (সদর একাংশ ও রায়পুর) আসনের প্রার্থী মাওলানা একিউএম মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়ার হাতে, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. রেজাউল করিমের হাতে এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনের প্রার্থী জেলা জামায়াত সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ’র হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম।
জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মন্তব্য করুন