মোঃ নুর হোসেন :
সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মাছ ঘাটে গোপনে এসব মাছ বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
৭ মার্চ (শনিবার) বিকেলে কমলনগরের প্রাণকেন্দ্র হাজিরহাট বাজার ছাড়াও উপজেলার মতিরহাট, পাটারিরহাট ও নবীগঞ্জসহ কয়েকটি মাছ ঘাটের পাশে গোপনে মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে কিছু অসাধু জেলে নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করছে এবং ভোরের আগেই সেগুলো বাজারে এনে বিক্রি করছে।
এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও যদি এভাবে মাছ ধরা ও বিক্রি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কমলনগর উপজেলা কোস্ট গার্ড (সিসি) সেলামত প্রিয় জানান, “আমরা নিয়মিত নদীপথে টহল ও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
অন্যদিকে কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত নদীতে টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্য করে কেউ মাছ শিকার করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ নিষিদ্ধ রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। অন্যথায় মেঘনা নদীর মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন