মিজানুর শামীম:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকসহ উপজেলাবাসীকে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ১ এপ্রিল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় “কমলনগর থানা লক্ষ্মীপুর” ফেসবুক আইডি থেকে এমন পোস্ট দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী এমন পোস্ট দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে পক্ষে- বিপক্ষে নানানরকম কমেন্ট পড়তে শুরু করেছে। কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ফরিদুল আলম এই ফেসবুক পোস্ট নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, সকল পেশায় ভালোমন্দ লোকজন আছে। তাই কমলনগর থানাবাসীকে যেকোনো বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহবান জানাই।
“কমলনগর থানা লক্ষ্মীপুর” ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম,
প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ সচেতন নাগরিক সহ কমলনগর উপজেলা বাসি আসসালামু আলাইকুম।
সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকগন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের অসঙ্গতি দূর করতে কাজ করে, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, তথ্য যাচাই না করে বা ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় যা মোটেও কাম্য নয়।
একজন প্রকৃত সাংবাদিকের কলম হবে সত্যের হাতিয়ার। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাই, কারণ এটি কাজের ত্রুটি সংশোধনে সহায়তা করে।তবে শব্দ চয়নে সতর্ক থাকা,ব্যক্তি স্বার্থ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ পরিহার করা একজন সচেতন সংবাদ কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।
পেশাদার সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধ থেকে অপসংবাদিকতা রোধে ভূমিকা পালন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নে গণমাধ্যম কর্মীরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন।
মাদক, জুয়া সহ যেকোনো অপরাধ দমনে কমলনগর থানা পুলিশ আপনাদেন সকলের সহযোগীতায় যানবাহন সহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্বেও আপ্রাণ ২৪/৭ কাজ করে যাচ্ছে।
অপরাধ এবং অপরাধীর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহজ হবে।
সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন পুলিশের সাথে থাকুন পুলিশের ভালো কাজে হ্যাঁ বলুন।
ওই ফেসবুক পোস্টে লক্ষ্মীপুরের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে স্কিলফুল সংবাদকর্মি হাসান মাহমুদ লিখেছেন- মূলধারার সাংবাদিককে তথ্য না দিয়ে যারা অপসাংবাদিকতা করে তাদেরকেই আপনারা তথ্য সরবরাহ করেন। সবশেষ সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, একটি ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, তিনি এটা বলতেই নারাজ, উনার বক্তব্য ছিল- আমি তা উনার কাছে জিজ্ঞেসই করতে পারি না। আদালত থেকে নেয়ার জন্য। তাহলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো কিভাবে?
কিছুক্ষণ পরেই “কমলনগর থানা লক্ষ্মীপুর” ফেসবুক আইডি থেকে এমন ভাবেই দেয়া হয়েছে- Hasan Mahmud ধন্যবাদ, মামলা হয়েছে এ ঘটনা যদি যার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তিনি বা তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানতে পারলে তিনি কি বাসায় ঘুমাবেন নাকি পলাতক হবেন দয়াকরে জানাবেন কি? তথ্য অধিকার আইন এবং তথ্য সুরক্ষা আইন পড়ুন জানুন এবং মানুন। জনগণের পাশে থাকুন।
Mohammad Zakir sha লিখেছেন- সাংবাদিকতা ও প্রশাসন দুই পক্ষই যদি দায়িত্বশীল থাকে, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা আরও দৃঢ় হবে।
সাংবাদিক হাসান মাহমুদের কমেন্টের উত্তরে M A Ahsan Riaz লিখেছেন- সঠিক বলেছেন ভাই। এই থানার বর্তমান ওসি সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করছেন না। প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য প্রদানে তিনি অনীহা দেখান। এমনকি সাংবাদিকদের তিনি সাধারণ জনগণের মতোই বিবেচনা করে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। এর আগে এই থানার ওসিদের সাথে আমরা কাজ করিনাই?
কমলনগরের স্হানীয় সাংবাদিক কাজী Kazi Younus লিখেছেন- তোরাবগঞ্জের কুখ্যাত কসাই বাহারসহ তাঁর সঙ্গীয় অপরাধীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে এটা সত্যি দুঃখজনক।
কমলনগরের স্হানীয় সাংবাদিক Yousuf Ali Mithu লিখেছেন- যে দেশে আওয়ামী লীগের সময় শ্রমিক লীগ হয়ে তখনকার সময় এমপি নামক ব্যক্তির কাছাকাছি থেকে প্রকৃত সাংবাদিকদিকদের কোনঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। আবার ৫ আগস্টের পর বিএনপি নামক লোকজনের একই ঘরনার লোক হয়। ভোটের সময় নিজের অস্তিত্ব ঠেকাতে বর্তমান সময়ের এমপিরও কাছের লোক হয়। সে দেশে প্রকৃত সাংবাদিকতা টিকবে কেমনে।
Mokhleshur Rahman Dhonu লিখেছেন- আমরা কমলনগর উপজেলা সৃষ্টি আগ থেকে সংবাদকর্মীর সাথে জড়িত, কিন্তু ওসি সাহেবের চেহারা কেমন আজও বলতে পারিনা। আর কিছু দালাল, চাঁদাবাজ সারাক্ষন থানা শালিশ বানিজ্য করে যাচ্ছে।
Mahmud Reaz নামে এক সাংবাদিক লিখেছেন- মাশাল্লাহ খুব সুন্দর লিখেছেন সাংবাদিক এবং পুলিশের ঐক্য প্রচেষ্টায় দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন হোক।
Borhan Uddin লিখেছেন- লক্ষীপুরে একটা স্মার্ট মোবাইল মানে একটা সাংঘাতিক।
MD Manik Bin Aziz লিখেছেন- কমল নগর থানার পুলিশ আমার টাকা খেয়েও। আমার মোবাইলটা উদ্ধার করেনাই ৬ মাসের উপরে হইছে।
Mohammad Main Uddin লিখেছেন- ভালো পরামর্শ দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
সুজন পাটোয়ারী লিখেছেন- ভালো পরামর্শ দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। স্যার আপনার জন্য দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো।
Md Adiyat Hossen Laden লিখেছেন- মাশাআল্লাহ ভালো কিছু শুনলেও ভালো লাগে। এছাড়া রিপোর্ট লেখার সময় সমাজের নানা শ্রেণী- পেশার মানুষজন ঐ পোস্ট ঘিরে পক্ষে- বিপক্ষে আরও বিভিন্ন রকম কমেন্ট পড়া শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন