মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর দু-একজনের অবস্থার উন্নতি হলেও বাকিদের অবস্থা এখনো আশানুরূপ নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর ৫–৭ দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাম রোগে সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও এর চেয়ে বড় শিশুরাও ঝুঁকিতে রয়েছে। সদর উপজেলার লালকান্দি ইউনিয়ন থেকে আসা এক মা জানান, তার সন্তান কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি, চুলকানি ও বমিতে ভুগছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টুমচর এলাকা থেকে আসা আরেক ভুক্তভোগী মা তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কালেরচর এলাকার আমেনা বেগম বলেন, “প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে সদর হাসপাতালে এনে জানতে পারি, সে হাম রোগে আক্রান্ত।”

এদিকে, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে হাম ও ডায়রিয়া রোগীদের একসাথে চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কক্ষের ব্যবস্থা করা জরুরি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানান, “হামের টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব।”
চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মন্তব্য করুন