Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) | দুপুর ১২:১৯
শিরোনাম:
রামগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপিত “রায়পুরে ডাকা‌তিয়া নদী এখন খোকন ডাকাতের কব‌লে” ‌ লক্ষ্মীপুরে ২৫০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোহন ও মিন্টু গ্রেপ্তার রায়পুরে মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে মোবাইল কোর্ট: বিভিন্ন রকম শাস্তি রায়পুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লক্ষ্মীপুরে বিধবা বৃদ্ধা অসহায় নারীর গাছ কেটে নিয়ে গেলেন মামুন রামগতিতে এবার সুপারির বাম্পার ফলন,কেনা-বেচায় ব্যস্ত চাষিও পাইকাররা লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা রামগঞ্জ পৌরসভাব্যাপী ৩শ গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ উদ্বোধন সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না: এলডিপির সভায় আমির খসরু

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দুর্নীতিমুক্ত হোক বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে। খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাটকল বন্ধের প্রসঙ্গে বলেছেন, বস্ত্র-পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। তবে তাঁর এই সমাপনী বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হচ্ছে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তাঁর দার্ঢ্য উচ্চারণ। আবারও অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেছেন, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ একই সঙ্গে আক্ষেপ করে তিনি বলেছেন, ‘চোর ধরে আমরাই যেন চোর হয়ে যাচ্ছি।’
আমরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়ে জার্মানির বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সিপিআই সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম। ২০০৬ সালে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮ সালে দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম, ২০১৭ সালে ১৭তম। দুর্নীতির ধারণা সূচক বা করাপশন পারসেপশন্স ইনডেক্স বা সিপিআই-২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৬তম। এ বছর ২০১৮ সালের তুলনায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে আসে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু দেশ থেকে দুর্নীতি যে দূর করা যায়নি, তা মানতে হবে। অনেকের এমন অভিযোগও আছে যে দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তোলা যায়নি। ফলে দুর্নীতি সমাজের নানা স্তরে ডালপালা বিস্তার করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জবাবদিহির দুর্বল কাঠামোর সুযোগ নিয়েই দুর্নীতির ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রথমেই রাজনৈতিক শুদ্ধাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাঁর অবস্থান জানিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা শুদ্ধাচার ও সুশাসন দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে।

আকাশপথ বন্ধের শঙ্কা
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো ছাড় নয়
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল সংকটে পড়তে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় এ আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অবতরণকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি দেশে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইতালিতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা জারির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দেশে এসে আটকা পড়া লক্ষাধিক মানুষ কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট কিনেও সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারবে কি না সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কেন এমন অবস্থা তৈরি হলো? এর কারণ কী? অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি বলেছেন, সরকারি সংস্থাগুলোর করোনা বিষয়ে খুবই সতর্ক হওয়া দরকার ছিল; কিন্তু হয়নি। তারা সতর্ক না থাকলে বাংলাদেশ এমন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তেই থাকবে। দু-একজনের জন্য অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের গন্তব্য আরো সংকুচিত হবে। টিকিট নিয়ে একটা সংকটও চলছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এক লাখ শ্রমিক এসেছিলেন। তাঁরা ফিরে যেতে পারছেন না। ইউরোপ-আমেরিকায় যেতে চান এমন ১৮ হাজার যাত্রী টিকিটের সন্ধান করছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৫ হাজার যাত্রীও অপেক্ষায় আছেন। নিষেধাজ্ঞার আওতা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ মহাবিপদে পড়বে।
এ অবস্থার কারণ, বাংলাদেশি যাত্রীদের অনেকে করোনা পরীক্ষা করে ফ্লাইটে উঠছেন না। অনেকের ওই সব দেশে গিয়ে করোনা পজিটিভ হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বের কোনো বিমানবন্দর বলেনি বাংলাদেশি যাত্রীদের করোনা সনদ নিয়ে যেতে হবে। তার পরও মন্ত্রণালয় যাত্রীদের উদ্দেশে বলেছে, তাঁরা যেন করোনা পরীক্ষা করে যান এবং ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে যে করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি চলে, তা বিদেশি বিমানবন্দরে গিয়ে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ইতালির বিমানবন্দরে অনেকেই পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, অথচ তাঁরা এ দেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে গেছেন। এটা আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশিদের ওপর আস্থাহীনতাই ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞার কারণ।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক-সাবধান হতে হবে। করোনার বানোয়াট সনদ যে দেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে, সেটা এখন স্পষ্ট। স্বাস্থ্য পরীক্ষা যথাযথভাবে করা যে কত জরুরি তা-ও এখন বোঝা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সতর্ক ও কঠোর না হলে অনেক বড় খেসারত আমাদের দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

করোনা চিকিৎসায় ব্যয় বৃদ্ধি দরিদ্রদের সামর্থ্যের কথা ভাবা দরকার
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ত্রাণ ও পুনর্বাসনে তৎপর হতে হবে

আর্কাইভ

SatSunMonTueWedThuFri
     12
24252627282930
31      
1234567
15161718192021
293031    
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     

আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ কে এম মিজানুর রহমান মুকুল