Header Border

ঢাকা, বুধবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ৩০.৯৬°সে
শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে থেকে পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা লক্ষ্মীপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে থেকে পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা লক্ষ্মীপুরে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক রনির পিতার মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে মাকে পিটিয়েছে পুত্র? বিচারে বকাবকি করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার লক্ষ্মীপুরে পদায়ন হওয়া পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামানকে রংপুর রেঞ্জ থেকে বিদায় সংবর্ধনা লক্ষ্মীপুরে জুলাই মাসে শ্রেষ্ঠ ওসি রামগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর এমদাদুল হক দালাল বাজার আ’লীগের উদ্যোগ শোক দিবসে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কমলনগরে শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও কাঙ্গালি ভোজ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে লক্ষ্মীপুরের রুপম

পারিবার বলছে- ‘জ্বীনে হত্যা করেছে’ ক্ষেতে মিলল গৃহবধূর পোড়া মৃতদেহ

লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে আমেনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। তার দেহের বিভিন্ন অংশে পোড়া ক্ষত রয়েছে বলে জানায় পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয়রা। শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে মৃতদেহটি দেখতে পায় স্থানীয় এক কৃষক।

আমেনা সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতা গ্রামের হেজু মাষ্টার বাড়ির কৃষক দিদার হেসেনের স্ত্রী। তাদের ঘরে ৩ কণ্যাশিশু রয়েছে। সে একই গ্রামের পাশ্ববর্তী সাধুল্যা মাষ্টার বাড়ির হাফেজ উল্যা মেয়ে।

তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানামূখী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পরিবারের লোকজনের দাবি- জ্বীনে আমেনা বেগমকে অদৃশ্য আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে। এছাড়া তার মধ্যে পূর্ব থেকে জ্বীনের আঁচর ছিলো বলে দাবি তাদের।

তবে বাড়ির কেউ বলছে আমেনা বেগম মৃগী রোগী ছিলো। সে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জ্বীনে আঁচরে বা মৃগী রোগের কারণে আমেনার মৃত্যু হয়নি। তার শরীরে যেহেতু পোড়া- তাই কেউ হয়তো তাকে হত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে তোফায়েল আহম্মেদ নামে এক কৃষক ভবানীগঞ্জের মেঘনা বাজার সংলগ্ন হেজু মাস্টার বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে কাজ করতে যান। এ সময় তিনি এক নারীর মৃতদেহ দেখে চিৎকার করেন। বাড়ির লোকজন এসে মৃতদেহটি আমােনার বলে শনাক্ত করে। পরে পরিবারের লোকজন মৃতদেহটি উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায়।

তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, আমি কোদাল নিয়ে ক্ষেতে কাজ করতে যাই। কিছুক্ষণ পর ক্ষেতের মাঝে একজন নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তবে তার পরনের জামা কাপড়-চোপড় স্বাভাবিক ছিলো। আমি চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন এসে মৃতদেহটি ক্ষেত থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায়।

আমেনার বোন ফাতেমা বেগম জ্বীনে হত্যা করেছে বলে উদ্ভট বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে দিদার হোসেনের সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি মেয়ে আছে। তাদের মধ্যে সাংসারিক কোন ঝামেলা ছিলো না। তবে তার বোনের উপর জ্বীনের আঁচর ছিলো। বেশ কয়েকবার কবিরাজের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। তবে জ্বীনের আঁচর থেকেই যায়। শনিবার সকালে জ্বীনে তার বোনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে।

তিনি দাবি করেন, পূর্বে যখন তাকে জ্বীনে আঁচর করতো, তখন আমরা কবিরাজ ডাকি। কবিরাজ আমাদেরকে পানির মধ্যে আগুন দেখিয়েছে, এখন সেই আগুনে পুড়ে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এটার জন্য আমরা অন্য কাউকে দায়ি করি না। আমার আমার বোনের মৃতদেহ কাউকে নিতে দেব না।

সে আরও জানায়, যে স্থানে তার বোনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, কয়েকদিন আগে সেখানে একটি গরুর অর্ধেক অংশ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তার বোন আমেনা বিষয়টি দেখতে পেয়ে গরুর দড়ি কেটে দিলে জ্বীন তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আজকে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। গরুর ঘটনাটি এলাকার সকলেই জানে। তবে তার এ বক্তব্যের বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। সকলে বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন বলে জানান।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পরিবারের লোকজন রহস্যজনক কারণে বিষয়টি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। শনিবার সকালে মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকে তারা মৃতদেহটিকে এনে ঘরের মধ্যে রেখে দরজা বন্ধ করে রাখেন। দুপুর ১টার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে উৎসুক লোকজনের ভীড়। এ সময় সংবাদকর্মীরা তথ্য নিতে গেলে আমেনার আত্মীয় পরিচয়ে কয়েকজন এসে বাঁধা দেন। তাদের দাবি ছিলো- জ্বীনে কারণে আমেনার মৃত্যু হয়েছে, তাই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে তারা কিছু বলবেন না।

এ সময় স্থানীয় লোকজনের সাথে আমেনার আত্মীয় পরিচয়ে লোকজনের হট্রগোল শুরু হয়। পরে এলাকার লোকজন বিক্ষোভ করে ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সঠিক তদন্তের দাবি জানান।

আমেনার বেগমের পিতা হাফেজ উল্যাকে দেখা গেছে- তড়িঘড়ি করে মৃতদেহ দাফনের ব্যবস্থা নিতে। এ সময় তাকে একটি দা হাতে বাঁশ কাটতে দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলায় তিনি দা হাতে লোকজনের দিকে তেড়ে আসেন।

তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের ‘হায়াত’ শেষ হয়ে গেছে, তাই মারা গেছে। এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করবেন। কোথাও মেয়ের মৃতদেহ নিতে দেবেন না। এতে তার মেয়ের আত্মার ‘গুনাহ’ হবে।

আমেনার বেগমের বাড়ির অন্য নারীরা জানান, সকালে আমেনা গরুর জন্য ঘাস কাঁটতে ক্ষেতে যান। মৃগী রোগের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় অন্য লোকজন বিষয়ি উদ্ভট দাবি করে বলেন, ক্ষেতে কোন পানি ছিলো না, তাহলে কিভাবে মৃগী রোগে মারা যায়? এছাড়া মৃগী রোগে মারা গেলে মৃতদেহের শরীর কিভাবে পুড়ে যায়?

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আহছান উল্যা বলেন, আমেনার মৃত্যুর খবর পেয় আমি তাদের বাড়িতে আসি। মৃত্যুর বিষয়ে লোকজন নানা রকম কথা বলছে। কেউ বলছে- বলছে জ্বীনে মেরে ফেলছে, আবার কেউ বলছে মৃগী রোগে মারা গেছে। বিষয়টি রহস্যজনক। জ্বীন-ভূতে মেরেছে, আমি তা বিশ্বাস করি না। তবে যে স্থানে আমেনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে, ওই স্থান নিয়ে লোকমুখে নানা ধরনের ভৌতিক প্রচারণা রয়েছে।

এদিকে দুপুরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবার ও বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শেয়ার করুন:

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

লক্ষ্মীপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে থেকে পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা
লক্ষ্মীপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষে থেকে পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা
লক্ষ্মীপুরে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা
লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক রনির পিতার মৃত্যু
লক্ষ্মীপুরে মাকে পিটিয়েছে পুত্র? বিচারে বকাবকি করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
লক্ষ্মীপুরে পদায়ন হওয়া পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামানকে রংপুর রেঞ্জ থেকে বিদায় সংবর্ধনা

আরও খবর

সম্পাদক প্রকাশক: এ.কে.এম. মিজানুর রহমান মুকুল