Header Border

ঢাকা, শনিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ২৯.৯৬°সে
শিরোনাম:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনাকে অশেষ ধন্যবাদ কভিড-১৯ এর কারণে বাংলাদেশের সবচেয়ে সংকটের কবলে শিক্ষাখাত শিক্ষকরা অন্য কোনো পেশা না পেয়ে ঘটনা চক্রে শিক্ষকতা পেশায় এসেছে সব মোবাইলের জন্য একই চার্জার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব গলায় ফাঁস দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা রামগঞ্জে চা-দোকানদার সামছুল হকের বিচার কান্দে নিরবে রাজশাহীতে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, দুই কর্মকর্তাসহ ৬ পুলিশ বরখাস্ত রামগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা-১০ হাজার টাকা মোমিনুর রহমান মামুনকে সরিয়ে আনিসুলকে নতুন কারা মহাপরিদর্শক নিয়োগ মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মেধাবী স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

লক্ষ্মীপুরে কুশাখালি ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ মনোনয়ন লাভে হাফ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বেড়ে চলেছে লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার কুশাখালিতে।নির্বাচনী হাওয়া বইছে এলাকাজুড়ে। এ দিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন লাভে হাফ ডজনের বেশি প্রার্থীর লবিং তৎপরতা তদবির চলছে উপজেলা জেলা ও কেন্দ্র পর্যন্ত। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্বপক্ষে জনমত তৈরিতে তৃণমূল কর্মীদের সাথে যোগাযোগসহ এলাকাব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন প্রায় ৩৫ হাজার জনঅধ্যুষিত এই ইউনিয়নটিতে একসময় রাজনৈতিক সহিংসতা মামলা হামলা ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের আবর্তে ক্রমান্বয়ে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসতে শুরু করে।শুরু হয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।জেলা শহর থেকে দূরত্বে অবস্থান হওয়ায় ছোটবড় সকল সমস্যা সমাধানে কুশাখালির সাধারণ জনগণের কাছে গ্রাম্য আদালতই হচ্ছে সর্বোচ্চ ভরসারস্থল।

আর এ কারণে এ এলাকার ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন’ বিষয়ে ইউনিয়নবাসীর আগ্রহ ও উৎসাহ একটু বেশিই।গ্রাম পাড়া মহল্লার দোকান ও কোলাহলে নির্বাচনের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগ করে চলেছেন। কুশাখালি একসময়ের বিএনপি জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সরকারের নানাবিধ উন্নয়ন ও জনমুখী সেবাসমুহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বহুগুনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।তবে সরেজমিন ঘুরে এ ইউনিয়নে আসন্ন নির্বাচনে ব্যতিক্রমধর্মী তথ্য,পরিসংখ্যান লক্ষ্য করা গেছে। এলাকাটিতে সরকার দলীয় ‘মনোনয়ন লাভ’ জয়ের প্রাথমিক স্তম্ভ নির্ণীত হলেও ‘অঞ্চল ভিত্তিক’ প্রার্থীর আত্বপ্রকাশ ঘটায় নির্বাচনে ভোটাররা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে আঞ্চলিকতার প্রশ্নে।এই ইউনিয়নের প্রায় সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রায় ৮ টি গ্রাম বা এলাকাভিত্তিক ইউনিয়ন। গ্রামগুলো যথাক্রমে -কুশাখালি,চিলাদি, কাঠালি,পশ্চিম কল্যানপুর,মদনা,ঘোরারবাগ,চর মটুয়া ও ঝাউডগী। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আঞ্চলিকতা হবে প্রার্থীদের বড় পুঁজি আর জয়ের চুড়ান্ত মাত্রা। একেক প্রার্থী একেক অঞ্চলের হওয়ায় যার যার অঞ্চলে তাঁর তাঁর ভোট ব্যাংক রয়েছে পর্যাপ্ত।

কুশাখালির চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন যারা-ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন (গ্রাম- চিলাদি)চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য এডভোকেট শামসুল আলম (গ্রাম-পশ্চিম কল্যাণপুর), ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মেম্বার (গ্রাম-কাঁঠালি),সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের পুত্র জনতা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোঃ রাফি নাহিদ(গ্রাম-মদনা),কুশাখালি গ্রামের রয়েছেন – ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক সদর উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিন বাহার চৌধুরীর জৈষ্ঠ পুত্র ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের সন্তান সাবেক ছাত্রনেতা নাজমুল হক তুহিন চৌধুরী,ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নাসির উদ্দীন, শোয়াইব হাসান মিন্টু, ইসলামি আন্দোলনের নেতা নুরুল আলম মুসা,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এম আজিজের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মোঃ কফিল উদ্দিন স্বপন,বিএনপি সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন মানিক (গ্রাম-ঘোরার বাগ পশ্চিম কল্যাণপুর)প্রমুখ।


অঞ্চলভিত্তিক চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকার ফলে ভোটারদের দৃষ্টি “আঞ্চলিক নেতা” নির্বাচিত করা।যদিও আওয়ামী দলীয় মনোনয়ন লাভকৃত প্রার্থী সকল আওয়ামী ঘরানার প্রার্থীদের একাভূত করার চেষ্টা চালাতে পারেন।
উপরোল্লিখিত আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত জোরালো লবিং তদবির করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, এডভোকেট শামসুল ইসলাম, আবদুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, তুহিন চৌধুরী ।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান জানান,’ দীর্ঘ দু’যুগ ধরে দল করে আসছি,দুর্দিনে দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে মামলা হামলার শিকার হয়েছি,তার সুফল হিসেবে দল মূল্যায়ন করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে গত নির্বাচনে জনগণ আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।আমি সরকারের সকল উন্নয়ন মূলক বরাদ্দ সুষমভাবে জনগনের মাঝে বন্টন করেছি।ইউনিয়নের সকল রাস্তা ঘাট পুল কালভার্ট মসজিদ মাদ্রাসা স্কুল সব প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নাই।আমাকে দল এবারের নির্বাচনে ও মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদী। আমি আবার মনোনয়ন পেয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে উন্নয়ন মূলক অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো।সকল রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করবো।দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান ভাতা সেবাদান অব্যাহত রাখবো”।অপর প্রার্থী এডভোকেট শামসুল ইসলাম জানান, “দলের জন্য শ্রম ঘাম ও আর্থিক ব্যয় করছি।তৃণমূল নেতাকর্মীর দুঃখ দুর্দশায় সবসময় এগিয়ে আসছি।সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, কর্মপরিকল্পনা, জনকল্যাণে অবদানসমুহ সাধারন জনগণের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। দলীয় কর্মী সমর্থকের সংখ্যা বৃদ্ধি করণে ভুমিকা রেখে চলেছি।দলের কাছে মনোনয়নের চেষ্টা করবো।মনোনয়ন পাবার জন্য শতভাগ আশা রাখছি।মনোনয়ন পেয়ে জনরায়ে নির্বাচিত হয়ে পশ্চাৎপদ এ ইউনিয়নে শিক্ষা স্বাস্থ্য সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বোতো নিয়োজিত থাকবো। সর্বপরি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত মেনে নিয়ে কাজ করবো”।আরেক প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে জানান,’বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলাম।তখন দল উপযুক্ত মনে করে অন্যজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল,তবে আমাকে তখন আশ্বস্ত করা হয়েছে যে,পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন করা হবে।সে অনুযায়ী আমি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করেছি।আশা করি দল যথাযথ মূল্যায়ন করলে আমাকে মনোনয়ন দিবেন।নির্বাচিত হতে পারলে রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট সংস্কারসহ ও দরিদ্র পরিবারের মানবিক সহায়তাসেবা যথাযথ উদ্যোগ নেব”।

মনোনয়ন প্রত্যাশি আবদুর রহমান মেম্বার জানান,”দলের জন্য আমার ত্যাগ সর্বোচ্চ।আমি দুঃসময়ে নির্যাতিত হয়েছি,আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছি দলীয় বিবেচনায় আমিই যোগ্য হবার কথা।সংগঠনের সঠিক মূল্যায়ন চাই।তিনি আরো দাবি করেন জনগণের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে কুশাখালিকে দরিদ্রমুক্ত উন্নত ও আধুনিক ইউনিয়নরুপে উপহার দেবেন”।অপর প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা তুহিন চৌধুরী জানান,” আমরা জন্ম থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বাবা বাহার চৌধুরী উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।কুশাখালি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন বিপদে আমাদের পরিবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপি জামায়াতের হামলা মামলা থেকে এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে রক্ষা নিমিত্তে আমার পরিবার আশ্রয় দিয়েছে।বিএনপি জোটের সময় ডজনখানেক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে আমার পরিবার।জনগণের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে যুগ যুগ ধরে জনতার সাথে মিশে আছি।তিনি বলেন,জনসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য।সরকারের সকল উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড আ’ম জনতার মাঝে প্রচার প্রচারণায় আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।তিনি বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো।সংগঠন আমাদের দুর্দিনের ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার বিচার করে আমাকে মনোনয়ন দিবেন বলে প্রত্যাশা করি।তিনি আরো জানান,দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এ এলাকার মাদকসেবি সন্ত্রাস চাঁদাবাজ নারী নির্যাতনকারীদের নির্মূল করে একটি মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করবো”।

অপর স্বতন্ত্র্য প্রার্থী প্রভাষক রাফি নাহিদ জানান,” আমার বাবা মরহুম নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এই ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর অবদান আজো জনগণ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।তিনি ছিলেন জনবান্ধব নির্লোভ ব্যক্তি। চেয়ারম্যান প্রার্থী আরো বলেন, ভোটাধিকার হরণের এই দুঃসময়ে ভোটাধিকার ফিরে এনে নির্বাচিত হতে পারলে বাবার আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে ইউনিয়নটিকে মামলা হামলামুক্ত, দরিদ্রমুক্ত শোষিত বঞ্চিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিশ্বস্ত ও সকলের জন্য উম্মুক্ত একটি আধুনিক উন্নত ইউনিয়নরুপে গড়ে তুলবো।

চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বপন জানান “আমি নির্বাচিত হলে জনসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেব।আমার ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই।কুশাখালির আপামর জনগণের উন্নত জীবনদানই আমার একমাত্র লক্ষ্য। তাছাড়া ইউনিয়নটিকে জেলায় শ্রেষ্ঠ ইউনিয়নে রুপান্তর করবো।

শেয়ার করুন:

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

রামগঞ্জে চা-দোকানদার সামছুল হকের বিচার কান্দে নিরবে
রামগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা-১০ হাজার টাকা
লক্ষ্মীপুরে ইউপি কমপ্লেক্স ভবন ও বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধ পরিকর: এমপি নয়ন
লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের পেটানোর অভিযোগ
চার বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ৪৮ ভাগ! ৩৪ বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের মাঝ পথে উধাও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান

আরও খবর

সম্পাদক প্রকাশক: এ.কে.এম. মিজানুর রহমান মুকুল