Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৯.৯৬°সে
শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে চুরি করতে গিয়ে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ এলাকাবাসীর হাতে আটক যুবক বগুরায় মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ডিবি পুলিশের ২ কর্মকর্তাকে বদলি লক্ষ্মীপুরে সংবাদ প্রকাশের পরে পাউবো’র জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শরীয়তপুরের সখিপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা লক্ষ্মীপুরে করোনার ভ্যাকসিন নিতে উপচে পড়া ভীড়: ঘন্টার পর ঘন্টা ভোগান্তি কমলনগর -রামগতিতে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি সুনামগঞ্জের ছাতকে সুন্দরী ডায়নার প্রেমে প্রতারিত অর্ধশতাধিক প্রবাসী! কমলনগরে মেঘনা নদীতে ২২ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে পিরোজপুরের কাউখালীতে গণধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল করার হুমকিতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টাকা না দেয়ায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার ত্যাগ করার মুহূর্তেই হাফিজ ভূঁইয়া (২৫) নামের অটোরিকশা চালককে তুলে নিয়ে দুই দিন পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। টাকা না দেওয়ায় ওই অটোরিকশাচালককে পুলিশ জামিনে বের হতে দেয়নি বলে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় হাফিজের মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে জেল সুপার, সদর থানার পরিদর্শকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। ১৯ জুলাই সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা বেগমের আদালতে এ মামলা করা হয়।

আদালতে দায়ের ওই এজাহারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন, জেলার দিদারুল আলম ও ডেপুটি জেলার রেজাউল করিম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম, পরিদর্শক (অপারেশন) সোহরাব আল হোসাইন, উপপরিদর্শক এসআই মো. বাবুল ও সুজন কুমার চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নিজাম উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। ঈদের ছুটির পর যেদিন আদালত খোলা হবে, সেদিন এই মামলায় আদেশ দেবেন বলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা বেগম জানিয়েছেন।

আদালতে দায়ের এজাহারে বলা হয়, সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সোহরাব আল হোসাইন, এসআই মো. বাবুল ও সুজন কুমার চক্রবর্তী জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারের সঙ্গে যোগসাজশে ১৬ জুলাই দুপুরে কারাগারের প্রধান ফটকের ভেতর থেকে একটি লাল রঙের পিকআপে হাফিজকে তুলে সদর থানায় নিয়ে যান।

অটোরিকশা চালক হাফিজ সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের দুর্বাজ মিয়ার ছেলে। তাঁর পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন দিবাগত রাতে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় ১৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা বেগম হাফিজকে জামিন দেন। ওই দিনই হাফিজের জামিনসংক্রান্ত সব নথি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু স্বজনেরা ওই দিন রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কারাগার থেকে হাফিজকে বের করতে পারেননি। সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সোহরাব আল হোসাইন, এসআই মো. বাবুল ও সুজন কুমার চক্রবর্তী জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারের সঙ্গে যোগসাজশে ১৬ জুলাই দুপুরে কারাগারের প্রধান ফটকের ভেতর থেকে একটি লাল রঙের পিকআপে হাফিজকে তুলে সদর থানায় নিয়ে যান।

হাফিজের পরিবার অভিযোগ করেন, এর আগে পুলিশ পরিদর্শক সোহরাব আল হোসাইন হাফিজের মা রেজিয়া বেগম ও ভগ্নিপতি মন মিয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকা চান। সোহরাব আল হোসাইন একপর্যায়ে হাফিজকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখান। পরে মন মিয়া সঙ্গে সঙ্গে সোহরাবকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। পরে পুলিশ পরিদর্শক সোহরাব, এসআই মো. বাবুল ও সুজন কুমার হাফিজের মা ও মন মিয়াকে রাতের মধ্যেই বাকি টাকা দিতে বলেন। টাকা না দিলে ডাকাতিসহ গুরুতর মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেন। বাকি টাকা দিতে না পারায় হাফিজকে গত ১৬ জুনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৭ জুলাই আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠান এসআই সুজন কুমার চক্রবর্তী।

হাফিজের ভগ্নিপতি মন মিয়া বলেন, ১৬ জুলাই দুপুরে লাল রঙের একটি পিকআপ জেল খানার গেটে ঢোকে। হাফিজ বের হলেই ভেতর থেকেই তাঁকে পিকআপে তুলে থানায় নিয়ে যান পরিদর্শক সোহরাব, এসআই বাবুল ও সুজন। হাফিজের মা রেজিয়া বেগম বলেন, ‘টাকা না দেওয়ায় হাফিজকে তাঁরা কারাগার থেইক্যা তুইল্যা নিয়া নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখাইছে।’

এজাহারে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না। কারণ, এ বিষয়টি আমার জানাই নেই।’ এজাহারের আসামিকে কারাগারের প্রধান ফটকের ভেতর থেকে গ্রেপ্তারের বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কিছু জানেন না। তিনি কারাগারেই যাননি। বিষয়টি জেনে জানাবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, কারাগারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিনিয়তই পুলিশ আসে। অনেককে রিমান্ডের জন্য নিয়ে যায়। আবার অনেককে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রধান ফটক পর্যন্ত কারাগারের সীমানা। জামিন পাওয়ার পর কারাগারের সীমানা থেকে কোনা আসামিকে গ্রেপ্তারের কোনো নিয়ম নেই। প্রধান ফটক অতিক্রম করলে পুলিশ মামলা সাপেক্ষে যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারাগারের সীমানার ভেতর থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন, এমন তথ্য আমার জানা নেই। এমনটি হওয়ার কথা নয়। আর আমাদের বিরুদ্ধে মামলার বাদীর তো কোনো অভিযোগ থাকার কথা না।’

শেয়ার করুন:

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

লক্ষ্মীপুরে চুরি করতে গিয়ে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ এলাকাবাসীর হাতে আটক যুবক
বগুরায় মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ডিবি পুলিশের ২ কর্মকর্তাকে বদলি
লক্ষ্মীপুরে সংবাদ প্রকাশের পরে পাউবো’র জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
শরীয়তপুরের সখিপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা
লক্ষ্মীপুরে করোনার ভ্যাকসিন নিতে উপচে পড়া ভীড়: ঘন্টার পর ঘন্টা ভোগান্তি

আরও খবর

সম্পাদক প্রকাশক: এ.কে.এম. মিজানুর রহমান মুকুল