স্টাফ রিপোর্টার :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রুহিতা ইউনিয়নে দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শফিক আহমেদ ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় পাঁচ নারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে চর রুহিতা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আবদুল হক মাস্টার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে নিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
আকলিমা আক্তার ওই এলাকার মৃত আবদুল হক মাস্টারের মেয়ে। অভিযুক্তরা হলেন মৃত মুনছুর আহমেদের ছেলে শফিক আহমেদ, মেয়ে আমেনা বেগম, শফিকের স্ত্রী মায়া বেগম, ইসমাইলের স্ত্রী কুলুন বেগম ও মান্নানের স্ত্রী নুর নাহার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। হঠাৎ শফিক আহমেদ ও তাঁর স্বজনরা ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জমির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে তাঁদের মারধর ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পাঁচ নারী আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তাঁদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় কয়েক ঘণ্টা পর ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জমি দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে শফিক আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আমেনা বেগমসহ অন্য অভিযুক্তরা জানান, জমিটি আগে তাঁদের দখলে ছিল না। সম্প্রতি তাঁরা জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সোমবার সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। তবে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন তাঁরা।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা দাবি করেন, তাঁরা আকলিমাদের মারধর করেননি; বরং আকলিমারাই তাঁদের মারধর করে আহত করেছেন। জমিটি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলাও চলমান বলে জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। মারধরের অভিযোগটি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।