প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৫:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৩৭ এ.এম

ফিরোজ আলম পরশ
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) থেকে :
উপজেলার আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক অসচ্ছতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি বিধি-পরিপত্র অনুসরণ না করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্ম ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী ও সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী পরীক্ষার গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বদরুল আলম যে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব দেন ফয়সাল নামের এক বহিরাগত ব্যক্তিকে ।পরবর্তীতে প্রশ্নপত্রটি শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় থানার তৎকালীন ওসির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর সমন্বিত তদন্তে ৬৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন মাউশির মহাপরিচালকের কাছে পাঠালেও চূড়ান্ত প্রশাসনিক নিষ্পত্তি কী হয়েছে তা অন্ধকারে রয়ে গেছে।
সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কীরিটি বিক্রম দাসের এমপিও ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিল, দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিতি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করার কথা উল্লেখ করেন।তার আর্থিক অনিয়মে খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ ।
এছাড়া প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩শ টাকা হারে দুই বছরের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের সামনের ১৮টি দোকানঘরের ভাড়ার অর্থ খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের কাজে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
এ দুটি উৎস থেকে প্রায় ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা হিসাবযোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে ব্যাংক হিসাব, ক্যাশবুক, ভাউচার, রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথি নিরীক্ষার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণির প্রায় ৬৬ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থী প্রতি ১ হাজার টাকা নেয়।
পাশাপাশি আরও ১ হাজার টাকা প্রদানের অঙ্গীকারনামা নেওয়া এবং কোনো কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ভর্তি রশিদে ১ হাজার ৭৫০ টাকা উল্লেখ থাকলেও অর্থের খাত উল্লেখ নাই এছাড়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদবিহীন অতিরিক্ত অর্থ এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে ২০২৫ সালের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে জামানত নেওয়া হয়েছিল পরে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
এসব অর্থের বৈধতা, হিসাব ও ব্যবহার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী, নৈশ প্রহরী ও বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং রশিদ প্রদান ও পুনরায় ফেরত নেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে।
২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রাক-নির্বাচনী ও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ডিউটি রোস্টারে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও ডিজিটাল কার্যক্রমে বহিরাগত ব্যক্তির বিদ্যালয়ের ই-মেইল, অনলাইন অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড ও প্রশাসনিক তথ্য কোনো বহিরাগত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
এর সঙ্গে ২০২৫ সালের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তির অনলাইন ফরম যথাসময়ে পূরণ না হওয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না সেটিও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বদরুল শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় ২০১৯সালের ২৮ আগস্ট রামগতি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বদরুল হোসেন বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।আমি স্কুলে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করায় কিছু শিক্ষক ও অভিভাবক আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল হক জানান, অভিযোগ পেয়েছি, প্রয়োজনীয় ব্যস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।