মিজানুর শামীমঃ
লক্ষ্মীপুরে রেশমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ শ্বশুর বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনায় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মৃত রেশমার পিতা-মাতার দাবী তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছেন, ২৯ জুলাই দুপুরের পরে রেশমা নিজ গৃহে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ ও সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন। রেশমার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং এই দম্পতির ৭ বছর বয়সী রাকিব নামে প্রথম শ্রেনিতে পড়ুয়া পুত্র ও তিন বছর বয়সী রাবেয়া নামে একটি কন্যা আছে। ২৫ বছর বয়সী রেশমা আক্তারের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্হ উত্তর চররমনী মোহন গ্রামের সরকার বাড়িতে।
৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে পাশের ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় মৃত রেশমার পিতার বাড়ীতে রেশমাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গেলে রেশমার আত্মীয় স্বজনের মাঝে শোকের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশে এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মৃত রেশমার মা-বাবা মেয়ের অকাল মৃত্যুকে সহজে মেনে নিতে না পেরে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সরকার বাড়ীর লোকেরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।
রেশমার স্বামী মালয়েশিয়া অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্হানীয় কয়েকজন জানান, রেশমার স্বামী রাজীব সরকার রেশমাকে বিয়ে করার পূর্বের আরও কয়েকটি বিয়ে করেছেন। বাবা-মায়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ৮ বছর পূর্বে সুদর্শন রাজীবকে নিজ ইচ্ছায় রেশমা বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে স্বামী রাজীব সরকার বিভিন্ন মেয়েদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানানরকম চ্যাটিং করাসহ টিকটক করতো এবং স্ত্রীকে ঠিকমত ভরনপোষণ দিতো না। রেশমা স্বামী রাজীবকে এসব থেকে ফিরিয়ে আনার বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
মৃত গৃহবধূ রেশমার আপন ভাসুর স্হানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিবো না। আপনার বাড়ীর ঘটনা আপনি কি জানেন জানতে চাইলে কামরুল মেম্বার বলেন, রেশমা আত্মহত্যা করেছে সবাই জানে এই বলে তিনি দ্রুত স্হান ত্যাগ করেন।
একই বাড়ীর বাসিন্দা ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী মহসিন সরকার এ প্রতিবেদককে বলেন, শুনেছি রেশমা আক্তার আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আরমান এ প্রতিবেদককে বলেন, মৃত রেশমার ময়না তদন্ত আমি এবং আরএমও সাহেব আজ দুপুরে সম্পন্ন করেছি। রিপোর্ট আসার পরে রেশমা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার এসআই মনির হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পরে আসল ঘটনা পাওয়া যাবে।