নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনার মামলায় ১১ মে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে গেলে বিচারক পৌর ১নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জহিরউদ্দিন (৪৫) কে কারাগারে পাঠান। অতিরিক্ত চিপ জুডিশিয়াল আদালতের সিআর ৫৬৫ মামলার বাদী একই এলাকার মৃত সিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার পুত্র মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া (৪৫)। এ ঘটনায় ফারহানা আক্তার শিল্পী (৩৫) নামে এক নারীরও আদালতে জামিন না মঞ্জুর হলে তাঁকেও কারাগারে যেতে হয়।
মামলার আর্জি ও স্হানীয় সুত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌর ১নং ওয়ার্ডস্হ মরহুম সিদ্দিক উল্যাহর পুত্র সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া ও তাঁর ভাই মাহতাবউদ্দিন ভূইয়ার সাথে একই এলাকার বাসিন্দা এবং স্হানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন জমির বিরোধ নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে ওই ঘটনায় বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন পক্ষের মামলায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া কিছুদিন কারাবাস করেন। পরবর্তীতে একই মারামারির ঘটনায় আফতাব এর ভাই মাহতাবউদ্দিন বিএনপি নেতা জহির উদ্দিনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এই মামলায় ১১ মে সোমবার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সাথে মামলার ১নং আসামি ফারহানা আক্তার শিল্পীরও জামিন না হওয়ায় তাকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।
এবিষয়ে মামলার বাদী মাহতাবউদ্দিনের ভাই আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন ওরফে গরু জহির দীর্ঘদিন আমাদের জমি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ঘটনার দিন জহির উদ্দিনের লোকজনের সাথে একটি খুটি গাঁড়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির সময় আমার ভাইয়ের মাথায় তাঁরা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। মা তাদের হাত থেকে ভাইকে বাঁচাতে গেলে তাঁরা মাকেও পিটিয়ে পায়ের হাড় ভেঙে দেয়। আমি জহিরের লোকজনের কবল থেকে মা- ভাইকে উদ্ধার না করলে হয়তো তাদেরকে তাঁরা মেরেই ফেলতো।
এবিষয়ে বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই মারামারির ঘটনার তিনি উপস্থিত ছিলেন না। আফতাব ও মাহতাবরা মিথ্যা মামলায় তাকে হয়রানি করছে।