নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মাটি লুটের মামলায় সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে জহির হোসেন (৪৪) নামের এক ব্যক্তি সপরিবারে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। গত ১৬ ও ১৭ এপ্রিল উপজেলার দিলসাদপুর গ্রামে দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ‘মেসার্স রেদোয়ান ব্রিকস’-এর মালিক রেদোয়ান হোসেনের দায়ের করা একটি মামলায় সাক্ষী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহম্মেদ ভূঁইয়ার ছেলে জহির হোসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে তানভীর হোসেন, রোমা আক্তার, মোরশেদ ও রাকিবসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ১৬ এপ্রিল সকালে জহিরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় জহিরের স্ত্রী ও কন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে এবং জহিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
পরদিন ১৭ এপ্রিল রাতে জহিরকে একটি দোকানের সামনে পেয়ে পুনরায় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ও মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে জখম হয়। হামলাকারীরা এ সময় তার পকেট থেকে নগদ ৯ হাজার ২০০ টাকা ও প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রি নং-৩২২২/৫৫ অনুযায়ী তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে বিক্রি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী। তবে তার প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জহির হোসেন বলেন, “সত্য কথা বলা এবং মামলার সাক্ষী হওয়ায় তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে শেষ করে দিতে চাইছে। এখনো তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।