নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানাধীন দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করায় এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও স্থানীয় এক বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হস্তক্ষেপে ঘটনাটি রহস্যজনকভাবে ঘরোয়াভাবে মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে। গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (১৮) ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে বাড়ির পাশে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি দেখে ফেলায় জাকির ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা নিয়ে মেহেদী ও তার পরিবারকে ধাওয়া করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে জাকির হোসেনকে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি দাবি করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ০২নং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন যুবদল জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল কবির রনি ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, জাকির হোসেন যুবদলের কোনো সদস্য নন এবং তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না। একই সঙ্গে মিথ্যা অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে একটি বড় ধরনের সালিশি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। তবে এর আগেই স্থানীয় এক বহিষ্কৃত যুবদল নেতার সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি গোপনে নিষ্পত্তি করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সংশ্লিষ্টরা চরম ভীতি ও চাপে রয়েছেন।
প্রকাশ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং রাজনৈতিক সংগঠনের অবস্থান পরিষ্কার করার পরও এমন গোপন সমাধান এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি শাস্তি এড়িয়ে গেলে জননিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।