মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদা ইয়াসমিন লিলি নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ তার বসতবাড়িতে ফের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক এ সহিংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী লিলি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বাঞ্চানগর এলাকার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, লিলি বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. হাসান, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বুধবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির মাপজোখ চলাকালে অভিযুক্তরা দা, ছেনি ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ছেনির আঘাতে লিলির মাথা ফেটে যায় এবং তার ডান হাতের কব্জি ও আঙুল গুরুতরভাবে জখম হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিলি বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগের খবর পেয়ে অভিযুক্তরা পুনরায় লিলির বাড়িতে হামলা চালায় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। লিলির অভিযোগ, প্রথম দফার হামলায় তার গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় দফায় ঘরে থাকা জমানো নগদ অর্থও লুট করা হয়েছে।
আহত লিলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ওরা আমাকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে। থানায় বিচার চাইতে যাওয়ায় এখন আমার বাড়িঘর লুট করছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথম ঘটনার পাশাপাশি পুনরায় হামলা ও লুটপাটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা আর না ঘটে।