মাহমুদুর রহমান মনজু :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চার ছেলেকে ঘায়েল করতে ‘গায়েবি’ ও ‘ভিত্তিহীন’ মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন কোনো সংঘর্ষ বা লুটপাট না ঘটলেও সাজানো ঘটনার মাধ্যমে ৪৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও দলিল ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। বিবাদী পক্ষের দাবি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে এই মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানাধীন রাধাপুর গ্রামের রাইতের বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের সাথে তার ছেলে আব্দুর রহিম ও মাসুদদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ইতিপূর্বেও এই দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় এলাকায় কোনো বড় ধরণের মারামারি বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি। অথচ সেই সময়টিকে কেন্দ্র করেই এই ভয়াবহ লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার প্রধান বিবাদী আব্দুর রহিম (৫০) জানান, "৫ই এপ্রিল সন্ধ্যায় আমরা আমাদের বাড়িতেই ছিলাম। অথচ মামলায় বলা হয়েছে আমরা নাকি দরজা ভেঙে ঢুকে ৪৫ ভরি স্বর্ণ লুট করেছি। একজন সাধারণ মানুষের ঘরে এত স্বর্ণ থাকা যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি জনবহুল একটি বাড়িতে লুটপাটের সময় কেউ টের পাবে না—এটাও অবিশ্বাস্য। মূলত আ
মাদের জমি আত্মসাৎ করার জন্য এই সাজানো গল্প তৈরি করা হয়েছে।"
অভিযুক্ত মাসুদ দাবি করেন, "বাদীপক্ষ যে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তারা নিজেরাই কিছু মানুষকে সাক্ষী সাজিয়ে আমাদের জেল-হাজতে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছে।"
মামলায় যে পরিমাণ স্বর্ণ (২১৪ গ্রাম) ও নগদ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বিবাদী পক্ষ মনে করছে, মামলার ৩৭০, ৩০৭ ও ৩৮০ এর মতো গুরুতর ধারাগুলো শুধুমাত্র হয়রানি করার উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানায়, দুই পরিবারের এই দীর্ঘদিনের বিবাদ এখন এলাকা ছাড়িয়ে আদালতের বারান্দায় ঠেকেছে। বিবাদী পক্ষ প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে একটি নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, সঠিক তদন্ত হলে এই 'গায়েবি' লুটপাটের রহস্য ফাঁস হয়ে যাবে।